আগামীর সময়

ভোলা

প্রণোদনার চাল পাননি জেলেরা, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে মাছ শিকার

প্রণোদনার চাল পাননি জেলেরা, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে মাছ শিকার

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই মাছ শিকার করছেন জেলেরা। বুধবার মেঘনা নদীর তুলাতুলি ঘাট এলাকায় থেকে তোলা। ছবিঃ আগামীর সময়।

সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে চলছে মাছ শিকারের মহোৎসব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় দিন ও রাতে যেমন চলছে মাছ শিকার, তেমনি সেগুলো প্রকাশ্যে বিক্রিও করা হচ্ছে। ফলে ইলিশসহ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে জেলেরা বলছেন, বিকল্প কর্মসংস্থান ও সরকারের প্রণোদনা সঠিকভাবে না পাওয়ায় সংকটে দিন কাটছে তাদের।

তাঁর উপর মহাজন ও এনজিওর ঋণগ্রস্ত জেলে পরিবারগুলো নানা সংকটের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় সরকারের সহযোগিতাও তারা সঠিক ভাবে পাচ্ছেন না। তাই বাধ্য হয়ে তারা জীবিকার তাগিদে চরম ঝুঁকি নিয়ে নদীতে মাছ ধরছে। এমন পরিস্থিতিতে এনজিওগুলোর ঋণের কিস্তি বন্ধ রাখাসহ দ্রুত সরকারি প্রণোদনার চাল বিতরণের দাবী জানিয়েছেন জেলেরা।

জানা গেছে, ইলিশের অভয়াশ্রম তৈরি করতে গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ২ মাস জেলার তেতুঁলিয়া নদীর ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তম পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এবং মেঘনা নদীর ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটার, এই মোট ১৯০ কিলোমিটার নদীতে সব ধরণের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এই সময়ে মাছ শিকারের পাশাপাশি মাছ বাজারজাত, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মাঠ পর্যায়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। নির্দেশনা অমান্য করে প্রকাশ্যেই চলছে মাছ শিকার ও বাজারে চলছে বেচাকেনা।

সরেজমিনে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি এলাকায় দেখা যায়, মাছ শিকারের জন্য জেলেরা নৌকায় ও ট্রলারে জাল বোঝাই করে ছুটছেন মেঘনার বুকে। নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবাধে জাল ফেলছেন জেলেরা। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই ধরা হচ্ছে জাটকাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। মাছ শিকার শেষে কিছু সময় পরপর তুলাতুলি মাছ ঘাটে ফিরছেন জেলেরা। মাছের আড়ৎগুলোতে প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি হচ্ছে এসব মাছ। এমন দৃশ্য দেখে বোঝার উপায় নেই, এখন নিষেধাজ্ঞা চলছে। শুধু এই ঘাটই নয়, জেলার প্রতিটি ঘাটের চিত্রই এমন।

জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার এক মাস পার হলেও তারা এখনো সরকারি বরাদ্দের চাল পাননি। পাশাপাশি এনজিওর সাপ্তাহিক কিস্তির চাপে বাধ্য হয়ে নদীতে নামছেন তারা। জেলে মো. আবু তাহের ও মো. ইব্রাহিমের ভাষ্য, ‘পেটের দায়ে নিষেধাজ্ঞা মানা সম্ভব হচ্ছে না।’ শাহাবুদ্দিন নামে এক জেলের অভিযোগ, ছোট নৌকায় মাছ শিকারে গেলে তাদের ধাওয়া করে প্রশাসন। তবে প্রভাবশালী জেলেরা নির্বিঘ্নে মাছ শিকার করছে।

নিষেধাজ্ঞার এই সময়েও প্রকাশ্যে মাছ বেচাকেনার বিষয়ে কথা বলতে রাজি হলেন না তুলাতুলি মাছ ঘাটের আড়ৎদাররা। যদিও পরে মো. আলাউদ্দিন নামের এক আড়ৎদার জানালেন, জেলেদের মতো তারাও আর্থিক সংকটে রয়েছেন। সংসার চালাতে ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েই মাছ বেচাকেনা করছেন।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নিবন্ধিত ১ লাখ ৬৮ হাজার জেলের মধ্যে ৯০ হাজার ২১৩ জনকে মাসে ৪০ কেজি করে ৪ মাস চাল দেওয়ার কথা। এ জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১৪ হাজার ৪৩৫ মেট্রিক টন চাল। তবে ভোলা সদর উপজেলার জেলেরা এখনো এ সহায়তা পাননি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের ভাষ্য, অন্যান্য উপজেলায় চাল বিতরণ প্রায় শেষ হলেও সদর উপজেলার চাল এখনো গুদামে পৌঁছেনি। শিগগিরই জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় অভিযান পরিচালনায় কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর আগে অভিযানে যাওয়ার সময় লালমোহনে একটি দুর্ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর পর থেকে অভিযান কার্যক্রম কিছুটা শিথিল রয়েছে। প্রকাশ্যে মাছ বিক্রির বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে উপজেলা পর্যায়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন তিনি।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, জাটকা সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ইলিশ উৎপাদন মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে। তাই অভয়াশ্রম কার্যক্রম বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি এবং জেলেদের জন্য সময়মতো সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    শেয়ার করুন: