চট্টগ্রামে এক-তৃতীয়াংশ ভোটকেন্দ্র ‘ঝুঁকিপূর্ণ’

চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম থেকে নির্বাচনের সরঞ্জাম বিতরণের ছবি তুলেছেন নুর হাসিব ইফরাজ
চট্টগ্রামের এক-তৃতীয়াংশ ভোটকেন্দ্রই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে সাধারণ ভোটকেন্দ্রের চেয়ে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরী মিলিয়ে মোট ভোটকেন্দ্র ১ হাজার ৯৬৫টি। এর মধ্যে ৬৫৩টিকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এই দুই ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে এসব কেন্দ্রে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।
চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪১ ওয়ার্ড ও ১৫ উপজেলা মিলিয়ে মোট সংসদীয় আসন ১৬টি। এর মধ্যে তিনটি আসনের অবস্থান পুরোপুরি মহানগরীতে। আরও তিনটি আসন রয়েছে জেলা ও মহানগরীর কিছু অংশ মিলে। বাকি দশটি আসনের অবস্থান জেলায়।
এখানে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী। এর মধ্যে মহানগরী ও নগরী সংলগ্ন উপজেলা মিলিয়ে মোট পাঁচটি আসনে বিভাগীয় কমিশনার, মহানগরীর একটি আসনে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং জেলার দশটি আসনে জেলা প্রশাসক রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন।
তারা জানান, চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রে মোট ১২ হাজার ১টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৬০৭টি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপির) ১৬ থানার আওতাধীন। বাকি ১ হাজার ৩৫৮টি কেন্দ্র জেলা পুলিশের ১৭টি থানার আওতাধীন।
মোট ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৫৩টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। নগরীতে ৬০৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩১০ টি ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর জেলা পুলিশের অধীনে ৩৪৩টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জানতে চাইলে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) আমিনুর রশীদ বলেন, ‘বিভিন্ন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাব বিবেচনায় রেখে কিছু ভোটকেন্দ্রকে আমরা বিশেষ নজরদারিতে রেখেছি। এসব ভোটকেন্দ্রের বাইরে আমাদের স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে, সেনাবাহিনী ও র্যাবের টহল টিমও কাজ করবে।’
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, ‘পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। স্ট্রাইকিং ফোর্সকে আমরা এমন এলাকায় মোতায়েন রাখবো, যেন যে কোনো ঘটনার খবর পেলে ২-৪ মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছাতে পারে।’
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা আগামীর সময়কে বলেন, ‘জেলার কিছু বিশেষ ও দূরবর্তী কেন্দ্র যেমন— উড়িরচর, ফটিকছড়ি ও বাঁশখালীর পাহাড়ি এলাকাগুলোকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব এলাকায় সেনাবাহিনীর ইউনিট থাকবে। ভোটের ফলাফল ঘোষণা শেষ হওয়া পর্যন্ত এসব কেন্দ্র এবং আশপাশের এলাকায় বাড়তি ফোর্স মোতায়েন থাকবে।’
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৩ থেকে ১৮ জন করে সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে অস্ত্রসহ পুলিশ সদস্য, অস্ত্রসহ আনসার-ভিডিপি সদস্য, লাঠিসহ পুরুষ ও নারী আনসার-ভিডিপির সদস্য থাকবেন ১০ জন। এছাড়া গ্রাম পুলিশের সদস্য থাকবেন ১ থেকে ২ জন। এছাড়া পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড থাকবে। এছাড়া নির্বাচনে সেনাবাহিনীও মোতায়েন আছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ছিল ২ হাজার ২৩টি। এ হিসেবে দুই বছর পর হতে যাওয়া এবারের নির্বাচনে ৫৮টি ভোটকেন্দ্র কমেছে।

