নদীর বুকে পাঠশালা

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ ফেরিঘাট থেকে মাত্র ৩০০ গজ দূরে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসমান তিনটি তরী। একটিতে লেখা ‘পরিবেশ তরী’, মাঝেরটিতে ‘ইতিহাস তরী’, শেষেরটিতে ‘ডিজিটাল তরী’। নদীর পাড়ের ওয়াকওয়ে দিয়ে যে পথচারীই হেঁটে যান, কৌতূহলী চোখে তাকান সেগুলোর দিকে। জিজ্ঞেস করলে আয়োজকরা জানিয়েছেন, শিশুদের পরিবেশ, ডিজিটাল ও ইতিহাস বিষয়ে শেখাতে ব্র্যাকের অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখন তরীর বহরে যুক্ত হয়েছে তিনটি নতুন তরী। এ নিয়ে ব্র্যাকের শিখন তরীর সংখ্যা দাঁড়াল ছয়ে। এসব ভাসমান শিক্ষাক্ষেত্র নদীকে পরিণত করছে শ্রেণিকক্ষে। সেই সঙ্গে খেলাধুলা ও হাতে-কলমে শেখার অভিজ্ঞতা পৌঁছে দিচ্ছে দেশের দুর্গম নদীভাঙন ও হাওরাঞ্চলের শিশুদের কাছে।
গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জের কদম রসুল দরগাহ মাঠে এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এর আগে শীতলক্ষ্যার পাড়ে তরীগুলো উদ্বোধন করেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। এতে উপস্থিত ছিলেন বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার; ব্র্যাকের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মাইগ্রেশন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খান এবং ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির হেড অব সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের নিভিন রেজা।
আসিফ সালেহ তার বক্তব্যে বলেছেন, ‘আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে প্রায়োগিক জ্ঞানের সংযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবন সমাধান করতে শিখতে হবে অঙ্কের মাধ্যমে। যে তিনটি শিখন তরী উদ্বোধন করা হলো, সেগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা পরিবেশ, ইতিহাস এবং ডিজিটাল বিজ্ঞানের ব্যবহার বুঝতে কৌতূহলী হবে।’
ইউএনও শিবানী সরকার বললেন, ‘যে তিনটি তরী উদ্বোধন হয়েছে, এর প্রতিটি প্রযুক্তিনির্ভর। ডিভাইসের বিকল্প হিসেবে শিশুদের জীবনে এগুলো কাজে আসবে শিক্ষা উপকরণের মতো।’




