সিলেটে দম্পতি ও গৃহকর্মী খুন: চুরি সন্দেহে এগোচ্ছে তদন্ত

সিলেটের এই বাড়িতে (বাঁয়ে) হত্যার শিকার প্রবীণ দম্পতি (ডানে)। ছবি: আগামীর সময়
সিলেট নগরীর রায়নগরে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস ছিল আব্দুস সাত্তার মিয়া (৯০) ও সুরাইয়া বেগম (৭৬) দম্পতির। তাদের চার সন্তানের মধ্যে দুইজন থাকেন লন্ডনে, দুইজন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। মিতালী আবাসিক এলাকার নিকুঞ্জ ভিলা নামের তিনতলা ভবনটি আব্দুস সাত্তারের। দোতালায় থাকতেন এই দম্পতি, সঙ্গে থাকতেন গৃহকর্মী তাহমিনা (১৫)। নিচতলা ও উপরের তলার ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া।
নিজ ফ্ল্যাটেই আজ বুধবার সকালে পাওয়া গেছে এই দম্পতি ও তাদের গৃহকর্মীর রক্তাক্ত মরদেহ। ঘটনাস্থলের আলামত দেখে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চুরির ঘটনার জেরে এই হত্যাকাণ্ড।
হত্যার খবরে ঘটনাস্থলে আসা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আব্দুস সাত্তার ছিলেন ব্যবসায়ী। ছিলেন সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্যও। তার ভাগনে মো. মুন্না বললেন, ‘সকালেও প্রতিবেশীরা তাদের কথাবার্তা শুনেছেন। মনে হচ্ছে সকাল ৯টার পর কোনো একসময় তাদের ওপর হামলা হয়ে থাকতে পারে। তবে কী কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো আমরা নিশ্চিত না।’
নিহত দম্পতির প্রতিবেশী রোমানা আক্তার সুমি বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে তারা এই এলাকায় থাকেন। এলাকার সবাই তাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান করতেন। গত রমজানেও এলাকাবাসী আব্দুস সাত্তারকে প্রবীণ মুরব্বি হিসেবে সম্মাননা দেন। তার সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল বলে কখনো শুনিনি।’
সকালে ওই বাসা থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে পুলিশে খবর দেন প্রতিবেশীরা। পুলিশ গিয়ে ফ্ল্যাটটির দরজা খোলা পায়। ভেতরে পরে থাকতে দেখে মরদেহগুলো।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেছেন, ‘কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের আঘাত করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ক্রাইম সিন থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি... ঘরের আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে স্বর্ণালঙ্কার বা মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গিয়ে থাকতে পারে।’
ওই বাড়ি ও পুরো এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। ওই সময় এলাকায় লোডশেডিং চলছিল বলে জানায় স্থানীয়রা।
দম্পতির আমেরিকা প্রবাসী মেয়ে শিমুর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে সাংবাদিকদের। তিনি জানান, ঘটনার আগের রাতেও ফোনে বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। তখন সব কিছু ঠিক ছিল, তারাও ভালো ছিলেন। কী কারণে এমন ঘটল- ধারণা করতে পারছেন না তিনি।
পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই ও বিশেষায়িত তদন্ত দল ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এসব জানিয়েছে থানা পুলিশ।






