ছাত্রীকে অশালীন প্রস্তাবের অভিযোগ, চাকরি গেল ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের

আব্দুল কাদের— সংগৃহীত
রংপুরের পীরগাছায় বহুভাষী সাঁটলিপি প্রশিক্ষণ একাডেমির এক ছাত্রীকে মুঠোফোনে অশালীন প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাদেরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে এ সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কমিটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক ছাত্রীর সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাদেরের ৩ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই অডিওতে ব্যবহারিক পরীক্ষায় ভালো নম্বর এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ছাত্রীকে আপত্তিকর প্রস্তাব দিতে শোনা যায়। তবে কথোপকথনের সময় ওই ছাত্রী তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন এবং শিক্ষককে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে অভিযুক্ত শিক্ষকের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত বুধবার একাডেমির সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেছেন, ‘বাবা-মায়ের পরই শিক্ষকের স্থান। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন অনৈতিক আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। তিনি শিক্ষকতার নৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছেন। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
ঘটনার পর গত বৃহস্পতিবার একাডেমির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাদেরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নীতিমালা অনুযায়ী আইয়ুব হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগে আব্দুল কাদের শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল কাদের বলেছেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। পরিস্থিতির কারণে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। পরে আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি মোকাবিলা করব।’
পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও একাডেমির সভাপতি জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন জানান, ‘নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’







