জামালপুর
তেলের জন্য পথেই রেখে যাচ্ছেন শখের মোটরসাইকেল

ছবি: আগামীর সময়
একের পর এক মোটরসাইকেল, তবে নেই কোনো চালক। দেখে মনে হবে, হয়তো চলে এসেছেন কোনো ডাম্পিং স্টেশনে। নয়তো এমন চকচকে মোটরসাইল ফেলে যায় কেউ?
ডাম্পিং স্টেশন নয়, পাম্প থেকে তেল নেওয়ার সারি এটি। সকালে দেওয়া হবে তেল, সেই আশায় রাতেই মোটরসাইকেল রেখে চলে গেছেন চালকরা। আবার, কেউ কেউ শুয়ে পড়েছেন মোটরসাইকেলের ওপর। আবার কেউ কেউ রাস্তায় দাঁড়িয়ে দিচ্ছেন আড্ডা।
গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জামালপুর পৌর শহরের পিটিআই ডিলার পয়েন্টে দেখা গেল এমন চিত্র।
এক বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত মমিন হাওলাদার। চাকরির কারণেই ছুটতে হয় এদিক-ওদিক, তাই মোটরসাইকেল তার নিত্যসঙ্গী। কিন্তু তেলের সংকটে চুরি হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও পথে মোটরসাইকেল রেখে যেতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। নয়তো পরদিন গাড়ি চালানোর জন্য তেল জুটবে না কপালে।
একই সারিতে দাঁড়ানো তারই মতো আরেক বেসরকারি চাকরিজীবী পারভেজ আহমেদ। ‘যুদ্ধ তো আমাদের দেশে লাগেনি। অথচ সারা দিন কাজের পর রাতে বাসায় না গিয়ে দাঁড়াতে হচ্ছে তেলের সারিতে। আজ গাড়ি রেখেই চলে যাচ্ছি বাসায়। এখানে বসে থাকলে কাল অফিসে যেতে পারব না। আবার মোটরসাইকেলে তেল না থাকলে, সমস্যা হবে অফিসের কাজে।’
একই ধরনের অভিজ্ঞতা জানালেন পৌর শহরের মুকুন্দবাড়ি এলাকার রফিকুল ইসলাম। ‘ছোট একটা ব্যবসা আমার। কোম্পানির এজেন্ট নিয়েছি দুজন। যোগাযোগের জন্য লাগে মোটরসাইকেল। কিন্তু তেল সংকটে পড়েছি বিপদে। সারা রাত জাগলে, সকালে কাজে যেতে পারি না। আবার তেল না নিলে, সকালে বের হতে পারি না।’
চালকদের অভিযোগ, মশার কামড়, ঘুমের অভাব এবং নিরাপত্তাঝুঁকি সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক অসহনীয় পরিস্থিতি। শুধু তেল নেওয়ার আশায় পথেই রেখে যাচ্ছেন শখের মোটরসাইকেল। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বাড়বে এ ধরনের ভোগান্তি। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ দাবি করছেন তারা।

