গুলিতে জেলের মৃত্যু: পরিবার-বনবিভাগের পাল্টাপাল্টি মামলা

খুলনার কয়রায় বনবিভাগের স্মার্ট বাহিনীর গুলিতে জেলের মৃত্যুর ঘটনায় হয়েছে পাল্টাপাল্টি মামলা। এলাকায় চলছে উত্তেজনা। বনবিভাগের ওই টহল দলের বিরুদ্ধে নিহত আমিনুর রহমানের পরিবার কয়রা থানায় করেছে হত্যা মামলা। আর সরকারি কাজে বাধা ও বনরক্ষীদের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা করেছে বনবিভাগ।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম এসব নিশ্চিত করেছেন। নিহত আমিনুরের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সোরা গ্রামে। গত বুধবার তার ভাতিজা অলিউল্যাহ কয়রা থানায় হত্যা মামলা করেন। আসামি করেছেন বন বিভাগের নলিয়ান ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা মোবারক হোসেন, পশ্চিম বনবিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক শামীম রেজাসহ অজ্ঞাতনামা ৯ থেকে ১০ জনকে।
এজাহারে বলা হয়, বিভিন্ন সময় বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তারা জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের কাছ থেকে চাঁদা তুলতেন। ১৫ দিন আগেও আমিনুরের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া হয়। এসব লেনদেন নিয়ে বনবিভাগের লোকজনের সঙ্গে তার তর্কও হয়।
গত ১৩ মে আমিনুর তার ভাতিজা ও আরও কয়েকজনকে নিয়ে সুন্দরবনে যান। ১৮ মে সকালে কয়রার আওতাধীন পাটকোস্টা এলাকার বেশো খালে মাছ ধরার সময় বন বিভাগের স্মার্ট প্যাট্রলিং টিম পৌঁছায় সেখানে।টহল দলের সদস্যরা আমিনুরের কাছে আবার চাঁদা দাবি করেন। রাজি না হওয়ায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নলিয়ান স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোবারক হোসেন গুলি চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ আমিনুরের পরিবারের।
তা অস্বীকার করেছেন মোবারক হোসেন। ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না জানিয়ে অন্য কর্মকর্তাদের বর্ণনা তুলে ধরেছেন তিনি।জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলটি ছিল প্রবেশ নিষিদ্ধ অভয়ারণ্য এলাকা। সেখানে জেলেদের নৌকা দেখে অভিযান চালায় টহল। এ সময় জেলেরা দা, কুড়াল ও বৈঠা নিয়ে বনরক্ষীদের ওপর চড়াও হয়।
জেলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গত সোমবার বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে লাশ রাখেন। সীমানাপ্রাচীর ভেঙে প্রবেশ করেন ভেতরে। সিসিটিভি ক্যামেরা, জানালা, গ্রিল ও ফটক ভাঙচুর করেন তারা।
বনবিভাগের নথি অনুযায়ী, সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের আওতায় ১৫ থেকে ২২ মে পর্যন্ত টহলের জন্য গঠন করা হয় ‘স্মার্ট টিম’। খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরিফুল ইসলামের সই করা আদেশে দাকোপ ও কয়রা উপজেলার আওতাধীন বনাঞ্চলে টহলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
দলের নেতৃত্বে আছেন শরবতখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোক্তাদির রহমান। সহকারী টিম লিডার কালাবগী ফরেস্ট স্টেশনের ফরেস্টার মো. আতিয়ার রহমান। আর সদস্য আটজন।
মোক্তাদির রহমান বলেছেন, বনরক্ষীদের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখন আসামিদের পরিচয় প্রকাশ করবেন না তিনি।
এদিকে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান জানিয়েছেন, জেলের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করবেন না তিনি।






