সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন আরও ২ সহযোগী গ্রেপ্তার

সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুজন
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ শনিবার ভোরে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে নেত্রকোনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন (২৪) ও মো. সাব্বির আহম্মেদ (২৫)।
ইমরান দুর্গাপুর পৌরসভার চর মোক্তারপাড়া এলাকার এবং সাব্বির একই উপজেলার তেরিবাজার এলাকার বাসিন্দা। গত বছর ১০ নভেম্বর সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের উপর হামলা চালায় ইমন।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় ওই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
গ্রেপ্তার দুজন হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন তাজুল ইসলামের সহযোগী। হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের এখনো দুর্গাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়নি।
ওসি আরও বলেন, ‘তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। আলিফের ওপর গত বছরের ১০ নভেম্বর যে হামলা হয়, সেই ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন ইমন। এ ছাড়া হত্যা মামলার তদন্তে ইমনের নাম উঠে আসে। ইমন ও সাব্বিরের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের একাধিক মামলা আছে।’
এ নিয়ে সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর আগে ১৮ অক্টোবর সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্বকে এবং ২০ অক্টোবর রাতে আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাদের দুজনকেই পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছিলেন। এখন তারা কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে আজ শনিবার দুপুরে নেত্রকোনা শহরে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকেরা। শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব, নেত্রকোনা জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলা তেলনজিয়া এলাকায় গুলিতে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নিহত হন। ঘটনার পরদিন আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা ওরফে খাদিজা আক্তার বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
নিহত আলিফ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ চালাতেন। ওই পেজে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে লিখালিখি করতেন।



