হাওরে বোরো ধান কাটা চলছে, মাঝেই বন্যার আতঙ্ক

হাওরে চলছে ধান কাটা, একইসঙ্গে বাড়ছে বন্যার আশঙ্কা
হাওরে বোরো মৌসুম ঘিরে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন সুনামগঞ্জের লাখো কৃষক। আগামী চার দিন দমকা হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় পাকা ধান ঘরে তোলার সময় নিয়েই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। কৃষি বিভাগ বলছে, সোমবার পর্যন্ত জেলায় মাত্র ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে প্রায় ৪১ শতাংশ।
শাল্লার বড় কৃষক ছত্তার মিয়া জানান, হাওরে পানি কমলেও ধানের জমি এখনও পানির নিচে থাকায় নামানো যাচ্ছে না হারভেস্টার, আবার শ্রমিক সংকটও প্রকট। দুইজন শ্রমিক দিনে এক কেয়ার জমির ধান কাটতে পারলেও খরচ পড়ছে প্রায় ৪ হাজার টাকা। আবহাওয়ার ঝুঁকির কারণে বেড়ে গেছে মজুরিও, ফলে কৃষকদের চাপ বেড়েছে আরও।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, ছায়ার হাওর, ভেড়াডহর ও ভান্ডা বিলসহ বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটা বাকি এখনো প্রায় অর্ধেক। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে জীবন ঝুঁকিতে রেখেও তারা ধান কাটার চেষ্টা যাচ্ছেন চালিয়ে। কখনো আকাশ পরিষ্কার থাকলে মাঠে যাচ্ছেন, আবার বজ্রপাত ও ঝড় শুরু হলে ফিরে আসছেন নিরাপদ স্থানে।
এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আগামী তিন দিন হতে পারে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত। এতে বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের নদীসংলগ্ন এলাকায়।
বিশেষ করে সুরমা, কুশিয়ারা, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি আশঙ্কা রয়েছে বিপদসীমার কাছাকাছি বা উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার। একই সঙ্গে ধনু-বাউলাই ও ভুগাই-কংস নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্ভাবনাও রয়েছে কালবৈশাখী ঝড়ের। ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
উজানে ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে হাওর এলাকায় বাড়ছে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকিও। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় বৃষ্টির চেয়ে উজানের ঢলই হাওরের কৃষির জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ।
পরিস্থিতি বিবেচনায় জরুরি সভা করেছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। কর্মকর্তারা জানালেন, আরও খারাপ হতে পারে আবহাওয়ার অবস্থা, তাই দ্রুত ধান কেটে নিরাপদে ঘরে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
কৃষক ও প্রশাসন উভয়েই বলছেন, সময় মতো ধান কাটা না গেলে আগাম বন্যায় দেখা দিচ্ছে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা।



