উপকূলীয় নিরাপত্তায় আনসার সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেবে নৌবাহিনী

জাতীয় নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলে আনসার সদস্যদের প্রশিক্ষণ জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সমন্বয়ে প্রথমবারের মতো প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। পর্যায়ক্রমে উপকূলীয় জেলাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে এ প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে উপজেলা আনসার উচ্চতর প্রশিক্ষণ-১-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিন’-এর আলোকে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রশিক্ষণে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী একজন প্রশিক্ষণার্থীকে ক্রেস্ট এবং অন্য প্রশিক্ষণার্থীদের ডিজিটাল সনদপত্র ও আনসার ব্যাংকের শেয়ার সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত গণপ্রতিরক্ষা দর্শনের আলোকে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৬০ লাখ সদস্যকে জাতীয় নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও জনসেবায় আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংস্কার কার্যক্রমে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, স্বেচ্ছাসেবা ও আত্মত্যাগের চেতনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি তাদের পরিবার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে সচেতন, দায়িত্বশীল ও সক্ষম জননিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার কার্যক্রম চলছে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যৌথ প্রশিক্ষণ এবং আন্তবাহিনী সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন যৌথ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সঙ্গেও প্রথমবারের মতো প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মহাপরিচালক বলেন, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টার দিকনির্দেশনায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সহযোগিতায় নেওয়া এ উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে উপকূলীয় জেলাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে উপকূলীয় নিরাপত্তা, মৎস্যজীবী ও মাছ ধরার নৌযানের সুরক্ষা, উদ্ধার অভিযান এবং দুর্যোগকালীন ও বিশেষ পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো হবে। এ জন্য প্রান্তিক পর্যায়ে বাহিনীর বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবককে ধাপে ধাপে একই ধারার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে সদস্যদের সমন্বিত তথ্যভান্ডার, কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল প্রশিক্ষণ সনদ, ডিজিটাল মনিটরিং, মাঠপর্যায়ে ডিজিটাল ফেসিয়াল অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম ও সিআরএম ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলেও জানান মহাপরিচালক। এ ছাড়া বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ কর্মসূচি, সামাজিক সচেতনতা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ককে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রতিনিধি, জেলার বিভিন্ন দপ্তরের আমন্ত্রিত অতিথি এবং বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।



