আশাশুনিতে পাউবোর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, প্লাবনের শঙ্কা

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বিছট গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোররাতে পাউবো বিভাগ-২ এর আওতাধীন ৭/২ পোল্ডারের জহুর আলী মোড়লের বাড়ির সামনে এ ভাঙন সৃষ্টি হয়। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো বাঁধ খোলপেটুয়া নদীতে বিলীন হয়ে গিয়ে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।
স্থানীয়রা জানায়, গত বছর ঈদের দিন একই এলাকার বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে প্রায় দেড়শ ফুট বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সে সময় গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে অস্থায়ী রিংবাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করলেও দুপুরের জোয়ারে তা ভেঙে গিয়ে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়।
এবারও ঈদের আগমুহূর্তে একই স্থানে নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত বছরের ক্ষয়ক্ষতির ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
বিছট নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আবু দাউদ বলেছেন, বুধবার সকালে গিয়ে দেখি বেড়িবাঁধের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি অংশ ইতোমধ্যে নদীতে ভেঙে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভোররাতের জোয়ারে এই ভাঙন ঘটে। স্থানীয়রা আপাতত মাটি ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গত বছর একাধিকবার সংস্কারের বরাদ্দ এলেও কাজ শেষ হয়নি। বিপুল পরিমাণ বালুভর্তি জিওব্যাগ পড়ে থাকলেও তা ব্যবহার না করায় পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে।
এ বিষয়ে পাউবো বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, ভাঙনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জিওব্যাগ ও জিও রোলসহ জনবল পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পানি প্রবেশ বন্ধে কাজ চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী মেরামত কার্যক্রম শুরু করার কথা জানান তিনি।

