শরণখোলা
বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টরের সুন্দরবন সাব-সেক্টরের যুদ্ধকালীন সিনিয়র কমান্ডার, বাগেরহাটের শরণখোলার রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম লালকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) আসরের নামাজের পর উপজেলার আমড়াগাছিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে আমড়াগাছিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার ভোর রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
জানাজার আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্থিতা হাওলাদার ও শরণখোলা থানার ওসি রোকেয়া খানম বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম লালের মরদেহে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানিয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পরে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
জানাজায় স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকরাম হোসেন তালিম, সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি সুজন মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন মিলন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
মুক্তিযুদ্ধের সাহসী সংগঠক নজরুল ইসলাম লাল ১৯৭১ সালে ৯ নম্বর সেক্টরের অধীনে সুন্দরবন সাব-সেক্টরের যুদ্ধকালীন সিনিয়র কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়েও তিনি গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। প্রগতিশীল ও উদার মানসিকতার এই মুক্তিযোদ্ধা শরণখোলা উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন।
তার মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে নজরুল ইসলাম লাল ও তার স্ত্রী আনিসা পারভীন রেবা ছিলেন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিবেদিত। গত ৭ জুলাই মারা যান উপজেলা মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আনিসা পারভীন রেবা।
স্ত্রীর মৃত্যুর মাত্র ১১ দিনের মাথায় তিনিও না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন। তাদের কোনো সন্তান-সন্ততি ছিল না। জীবদ্দশায় মানবিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিজেদের স্থাবর সম্পত্তির একটি অংশ স্থানীয় একটি এতিমখানার নামে দান করে যান এই দম্পতি।




