বৃষ্টিতে কোমর পানি
দূরত্ব দেড় কিলোমিটার, রিকশা ভাড়া ৩০০ টাকা

দিনভর ভোগান্তিতে পড়েছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছবি: আগামীর সময়
সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা আক্তার। প্রতিদিন ৪০ টাকা রিকশা ভাড়ায় কলেজ থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে পাঁচলাইশ আবাসিকের বাসায় যাতায়াত করেন। মঙ্গলবার তাকে সেই গন্তব্যে যেতে গুনতে হয়েছে ৩০০ টাকা! কারণ বাসার সামনে বুকসমান পানি। স্কুলফেরত সন্তানকে নিয়ে বুকসমান পানি পাড়ি দিয়ে সন্ধ্যায় বাসায় পৌঁছান তিনি। বিরক্তি প্রকাশ করলেন, ‘প্রায় দেড় দশক ধরে চট্টগ্রামে আছি। এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি।’
শুধু ফারজানা আক্তার নন, জলাবদ্ধতার কারণে দিনভর ভোগান্তিতে পড়েছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। কেউ হাঁটু, কেউ কোমর সমান পানি পাড়ি দিয়ে পৌঁছেছেন গন্তব্যে। পরীক্ষা শেষে বাসায় পৌঁছাতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। একদিকে বাড়তি ভাড়া, অন্যদিকে তীব্র যানজটে নাকাল নগরবাসী।
নগরের মুরাদপুর, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ, মোহাম্মদপুর, দামপাড়া, আগ্রাবাদ, হালিশহর, তিন পুলের মাথা, কাতালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার প্রবর্তক মোড় ও পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা।
বেলা পৌনে ১২টায় সন্তানের স্কুল ছুটি হয়। তাকে আনতে লালখানবাজার মোড়ের স্কুলে যান আয়েশা সিদ্দিকা। বৃষ্টির কারণে দেরি হয় রিকশা কিংবা সিএনজি অটোরিকশা পেতে। সন্তানকে নিয়ে হেঁটে পৌঁছান স্টেডিয়াম মোড়ে। সেখানে একটি রিকশা পান। কাতালগঞ্জ পর্যন্ত চালক ভাড়া হাঁকান ১৫০ টাকা।
কেউ হাঁটু, কেউ কোমর সমান পানি পাড়ি দিয়ে পৌঁছেছেন গন্তব্যে। পরীক্ষা শেষে বাসায় পৌঁছাতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। একদিকে বাড়তি ভাড়া, অন্যদিকে তীব্র যানজটে নাকাল নগরবাসী
অনন্যোপায় হয়ে সন্তানকে নিয়ে রিকশায় উঠেন। দুই কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টশ্বেরী রোড পাড়ি দিতে তাদের সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা। আয়েশা সিদ্দিকা বললেন, ‘বৃষ্টিতে ছেলে জুবুথুবু হয়ে পড়েছিল। তার ওপর দীর্ঘ যানজট। চকবাজার আসার পর পানির কারণে রিকশা আর যেতে রাজি হচ্ছিল না। পরে রিকশা থেকে নেমে পানি মাড়িয়ে বাসায় পৌঁছেছি।’
মহসিন কলেজের আরেক শিক্ষিকা মাছুমা আক্তার। তিনি কলেজ থেকে বের হন দুপুর ১টায়। বাসার সামনে পানি জমে থাকায় কাতালগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালের নামাজ কক্ষে অপেক্ষা করছিলেন। বিকেল ৫টায় ১৫০ টাকা ভাড়ায় আধভেজা হয়ে একটি রিকশা নিয়ে বাসায় পৌঁছান।
তার খেদ, ‘কাতালগঞ্জ থেকে কয়েকশ গজের দূরত্বে রিকশা ভাড়া বড়জোর ২০ টাকা। কিন্তু উপায় না পেয়ে ১৫০ টাকা দিয়ে বাসায় যেতে হয়েছে। এমন দুর্ভোগে আর কখনো পড়িনি।’
এদিকে খাল-নালা উপচে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়েছে পানি। এতে নষ্ট হয়েছে প্রতিষ্ঠানের পণ্য। মুরাদপুরের সবুজ মেলা নার্সারির মালিক মো. তৌহিদ জানান, তার দোকানের সার, গাছের চারাসহ প্রায় তিন থেকে চার লাখ টাকার জিনিস নষ্ট হয়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্তব্যরত আবহাওয়াবিদ জহুরুল ইসলামের ভাষ্য, কালবৈশাখী এবং বজ্রমেঘ সৃষ্টি হওয়ায় এই ভারী বৃষ্টি। এই বৃষ্টিপাত আরও ৯৬ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন তিনি।



