হরমুজ পাড়ি দিতে পারেনি ‘বাংলার জয়যাত্রা’

সংগৃহীত ছবি
ইরানের অনুমতি না মেলায় শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পাড়ি দিতে পারেনি বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ 'বাংলার জয়যাত্রা'। গতি বাড়িয়ে হরমুজ থেকে মাত্র ৪০ নটিক্যাল মাইল কাছে গিয়েও যাত্রা থামাতে হয়েছে জাহাজটিকে। আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আরব আমিরাতের সাকার বন্দরের কাছাকাছি সাগরে নোঙর করে নিরাপদ অবস্থান নিয়েছে এটি।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ও পণ্য পরিবহনে জাহাজ ভাড়াকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় ক্যাপ্টেন-নাবিকরা। এটি কতদিন একই অবস্থানে থাকবে সেটি নির্ভর করছে জাহাজের জ্বালানি, খাবারের সরবরাহ ও অনুমতির ওপর।
'বাংলার জয়যাত্রা' জাহাজের এডিশনাল চিফ অফিসার প্রণয় সেন শুক্রবার দুপুরে জানিয়েছেন, ‘ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) অনুমতির চেষ্টা করেছি জাহাজের ভিএইচএফ চ্যানেলে। কিন্তু তাতে মেলেনি সাড়া। সরকারও ইরানি দূতাবাসের মাধ্যমে চালাচ্ছে চেষ্টা। আইআরজিসির অনুমতি না পাওয়ায় নিরাপদে নোঙর করা জাহাজটি। এখান থেকে খালি চোখে দেখা যাচ্ছে হরমুজ প্রণালী।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানানো আবেদন এখনো হয়নি প্রত্যাখ্যান। আমরা অপেক্ষায় সিদ্ধান্তের। জাহাজটি এমন স্থানে নোঙর করেছি অনুমতি পেলে যেখান থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই শুরু করা যাবে যাত্রা
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর বুধবার সকালে পারস্য উপসাগর থেকে যাত্রা করেছিল বাংলার জয়যাত্রা। শুক্রবার ভোরের আগেই কথা ছিল পৌঁছাবে আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে। ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে কথা ছিল রওনা দেবে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার দুপুরে খবর আসে আবারও বন্ধ প্রণালী। তাতে বিষাদময় হয়ে যায় ৩১ নাবিকের মুখ। অথচ আগেরদিন ক্যাপ্টেনের পরিকল্পনা ছিল ৮ থেকে সাড়ে ১০ নটিক্যাল মাইল গতি বাড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাবে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে।
‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানানো আবেদন এখনো হয়নি প্রত্যাখ্যান। আমরা অপেক্ষায় সিদ্ধান্তের। সমস্যাটি বৈশ্বিক। আমাদের হাতে নেই কিছুই। তবে এমন স্থানে নোঙর করেছি অনুমতি পেলে যেখান থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই শুরু করা যাবে যাত্রা।’ কিছুটা উদ্বেগের সুরেই কথাগুলো বললেন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ক্যাপ্টেন মুজিবুর রহমান।
তার দাবি, জাহাজে ৩১ নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাবার আছে। তবে সাগরের পানি পরিশোধন করেই তৈরি করতে হয় খাবার পানি। তাই করতে হচ্ছে কিছুটা রেশনিং। জাহাজে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুদ আছে। তাতে মাসখানেক এ পরিস্থিতি থাকলেও খুব একটা অসুবিধা নেই।
যখন জানা গেছে ইরান চ্যানেল বন্ধ করেছে, তখন এক পাও এগোনো উচিত হয়নি। এরই মধ্যে একটি জাহাজে (গোল্ড অটাম) হামলা হয়েছে। ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বেশকিছু জাহাজ। এ পথ এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ
জাহাজের পণ্যগুলো ফুজাইরা বন্দর হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে যাওয়ার শিডিউল আছে এখনো। তাই পণ্যগুলো মাঝপথে অর্থাৎ সাকার বন্দরে নামানোর সুযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জবাব দেন, ‘সেটি সম্ভব নয়। জাহাজটিকে হয় ফুজাইরা যেতে হবে, তা না হলে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দরে ফেরত যেতে হবে। কী করব সেটি আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তের পর জানা যাবে।’ তবে ৩১ নাবিকের নিরাপত্তা সবার আগে বলেই জোর দিয়েছেন তিনি।
মুজিবুর রহমানের দাবি, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অনুমতি নিয়ে যাত্রা করেছে জাহাজটি। তাই ৩১ নাবিক ও জাহাজের মালিক শিপিং করপোরেশন যুদ্ধঝুঁকির ক্ষতিপূরণ পাবে।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী এই যাত্রার সিদ্ধান্তকে 'প্রিম্যাচিউর' বা অপরিপক্ব বলে মন্তব্য করেছেন। ‘যখন জানা গেছে ইরান চ্যানেল বন্ধ করেছে, তখন এক পাও এগোনো উচিত হয়নি। এরই মধ্যে একটি জাহাজে (গোল্ড অটাম) হামলা হয়েছে। ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বেশকিছু জাহাজ। এ পথ এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ।’
যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শুধু সম্মুখসারিতে থাকা ১৪টি পণ্যবাহী জাহাজ সক্ষম হয়েছে হরমুজ পাড়ি দিতে। লেবাননে ইসরায়েলি হামলার পর আবারও প্রণালীটি বন্ধের ঘোষণা আসে ইরান থেকে। তাতেই অন্তত তিন হাজারের মতো জাহাজ আটকা পড়েছে হরমুজের দুপাশে।

