খাতুনগঞ্জে মসলার ভরা বাজার, নেই ক্রেতার দেখা

খাতুনগঞ্জে মসলার বাজারে স্থবিরতা, ক্রেতা নেই
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে মসলার বাজারে তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি।
একদিকে আমদানিকারকেরা বেশি দামে করছেন পণ্য আমদানি। অন্যদিকে বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে তুলনামূলক কম দামে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তীব্র ক্রেতা সংকট।
ব্যবসায়ীদের মতে, বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি ও সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য প্রবেশের কারণে তৈরি হয়েছে এই অস্থিরতা।
আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিনে খাতুনগঞ্জ ঘুরে দেখা যায়, বাজারে আগের মতো নেই বেচাকেনা। অনেক দোকানে দীর্ঘ সময় বসে থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি কম। আড়তদারদের ভাষ্য, পাইকারি ক্রেতারাও এখন আগের তুলনায় কিনছেন কম পরিমাণে পণ্য।
দাম ও বিক্রির মধ্যে এই ব্যবধান স্পষ্ট। এলাচের কেজি আমদানি খরচ পড়ছে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টাকার বেশি, অথচ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ৫০ টাকায়। জিরার ক্ষেত্রে আমদানি খরচ ৬০০ টাকার বেশি হলেও বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকার কাছাকাছি। একইভাবে দারুচিনিও বিক্রি হচ্ছে খরচের নিচে।
আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বললে তারা বলছিলেন, গত কয়েক মাসে আমদানি ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে এলসি খোলা হয়ে পড়েছে কঠিন । পাশাপাশি বেড়েছে জাহাজ ভাড়া ও বিমা খরচও।
ইলিয়াছ মার্কেটের আল্লাহর দান স্টোরের পরিচালক জুয়েল রানা বললেন, “আগে যে পণ্য ১০০ টাকায় আনতাম, এখন সেটি আনতে ১৩০ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। কিন্তু সেই দামে বাজারে বিক্রি করা যাচ্ছে না।”
ব্যবসায়ীরা বলছিলেন, লোকসান হলেও নগদ অর্থ প্রবাহ ধরে রাখতে তারা বিক্রি করছেন বাধ্য হয়ে। কারণ নতুন করে পণ্য আমদানি করতে হলে রয়েছে অর্থের প্রয়োজন।
তবে শুধু খরচ বৃদ্ধিই নয়, বাজারে কমেছে চাহিদাও। আড়তদারদের মতে, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারেও পড়ছে এর প্রভাব। প্রয়োজন ছাড়া কেউ আর মজুত করছেন না পণ্য।
এদিকে সীমান্ত দিয়ে আসা কম দামের পণ্যও বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। তাদের দাবি, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে আসা কিছু পণ্য কম দামে বাজারে প্রবেশ করায় বৈধ আমদানিকারকেরা প্রতিযোগিতায় পড়ছেন পিছিয়ে।
খাতুনগঞ্জের আরেক আমদানিকারক মোহাম্মদ জসিম বলছেন, “আমরা নিয়ম মেনে পণ্য আমদানি করছি। কিন্তু বাজারে কম দামের পণ্য ঢুকলে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যায়।”



