ভাসছে চট্টগ্রাম
দেয়াল ধসে নারীর মৃত্যু, ভোগান্তিতে হাসপাতালমুখী রোগীরা

কোমরসমান পানিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারীরা
'আমার ছেলে ক্যানসারে আক্রান্ত। রক্ত দেওয়ার দরকার। কিন্তু পানির জন্য নিতে পারছি না তাকে। গতকালও গলা সমান পানি ছিল। এখন এসে দেখি আবারও পানি জমেছে এখানে। কী করব বুঝতে পারছি না। এটা আমাদের জন্য হয়রানি।' প্রবর্তক এলাকার হাঁটুসমান পানিতে দাঁড়িয়ে অসহায়ের মতো কথাগুলো বলছিলেন আসমা বেগম। আজ বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো পানিতে তলিয়ে গেছে এলাকাটি। এখানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও রয়েছে বেশ কিছু বড় বড় হাসপাতাল ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্র। রয়েছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও।
চট্টগ্রামে বৃষ্টি হচ্ছে দুদিন ধরে। আজ দ্বিতীয় দিনের মতো কোমরসমান পানিতে ডুবে রয়েছে প্রবর্তক এলাকা। এতে হাসপাতালমুখী রোগী ও অভিভাবক, সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। হাসপাতাল ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেছে রোগীর আনাগোনা।
শুলকবহর থেকে আসা মোহাম্মদ বেলাল জানান, এই এলাকাতেই সব বড় বড় হাসপাতাল। এরকম একটা জায়গায় যদি অল্প বৃষ্টিতেই এমন পানি হয়ে যায়, সেটা রোগীদের জন্য আরও বেশি কষ্টের। আজ দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, কোমরসমান পানি ওঠার কারণে প্রবর্তক থেকে গোলপাহাড়মুখী সড়কটির দুই পাশে বন্ধ হয়ে গেছে যান চলাচল। ফলে অন্য পাশে সৃষ্টি হয়েছে যানজট। এতেই আটকা পড়ে কয়েকটি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও।
রিকশাচালক সেলিম জানান, এত পানিতে রিকশা টানতে অনেক কষ্ট হয়। এখন বৃষ্টির জন্যই পানি হয়েছে। আগেও নালায় বাঁধ দেওয়ার কারণে মাঝে মাঝে সামান্য পরিমাণ পানি উঠত এখানে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার সময় হাসানুর ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেলে নগরীর বাইরে থেকে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসেন অনেক লোক। অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালের খরচ বেশি হওয়ায় নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের একমাত্র ভরসা চট্টগ্রাম মেডিকেল। কিন্তু অল্প বৃষ্টিতেই যদি এত পানি হয়ে যায়, তাহলে সেখানে পৌঁছানো অনেক কঠিন হয়ে যায় রোগীদের জন্য।
প্রবর্তক এলাকা পরিদর্শনে এসে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, হিজড়া ও জামালখান খালে বাঁধ দেওয়ার কারণেই জলাবদ্ধতা হয়েছে এখানে। আগামীকাল ৩টায় সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন তারা।
এদিকে, বৃষ্টির মধ্যে রাস্তার পাশের একটি দেয়াল ধসে মৃত্যু হয়েছে দেলোয়ারা বেগম (৬০) নামে এক নারীর। কর্ণফুলী থানাধীন শিকলবাহা মাস্টারহাট এলাকার বাসিন্দা তিনি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক নূর আলম আশেক জানান, বেলা আড়াইটার দিকে অতিবৃষ্টির সময় সড়কের পাশের একটি দেয়াল ধসে পড়ে তার গায়ের ওপর। হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন দেলোয়ারা বেগমকে।



