চট্টগ্রাম
বৃষ্টির পানির চাপে ভেঙে গেল লালদীঘির মাঠের দেয়াল

ছবি: আগামীর সময়
ছোট একটি মাঠ। কিন্তু এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক বেশি। দেশের স্বাধীনতা গণতন্ত্র আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার বলা হয় এই মাঠকে। স্বাধীনতা-পরবর্তী আগে ও পরে এই মাঠের জনসমাবেশে বক্তৃতা দিয়ে দেশ-বিদেশে আলোড়ন তুলেছেন বাঘা বাঘা রাজনীতিবিদরা। সেই মাঠের ভেতরে পাহাড়ি মাটি ঢুকে যাতে নষ্ট হয়ে না যায়, সেজন্য মাঠ রক্ষার দেয়াল তৈরি করা হয়েছিল চার বছর আগে। গতকাল মঙ্গলবার রাতের বৃষ্টির পানির স্রোতের তীব্র চাপে ধসে পড়েছে দেয়ালটি।
চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লায় লালদীঘি। জেল রোড পার হয়েই সেই ছোট্ট মাঠ; যা লালদীঘির মাঠ নামে পরিচিত। ভোরের দিকে জমে থাকা বৃষ্টির পানি ও নরম হয়ে যাওয়া মাটির চাপে হঠাৎ ধসে পড়ে দেয়ালটি। এতে ভেঙে মুখ থুবড়ে পড়েছে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি দিয়ে সাজানো কারুকার্যের এই দেয়াল। এতে অবশ্য কেউ হতাহত হয়নি।
লালদীঘি মাঠ চট্টগ্রামের একটি ঐতিহাসিক মাঠ শুধু নয়, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রও। জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতার জ্বালাময়ী বক্তৃতা ও দ্বন্দ্ব সংঘাতে রক্তাক্ত ঘটনার অনেক কাহিনিও রয়েছে। এখানে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলা।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে মাঠটিকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ২০২২ সালে বিগত সরকারের আমলে একটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে, নান্দনিক দেয়াল, ম্যুরাল ও একটি স্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ করা হয়। এ প্রকল্পে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়।
মাঠটি গভমেন্ট মুসলিম হাইস্কুলের অধীনে। দেয়াল ভেঙে পড়ার কারণ জানতে চাইলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোর্শেদুল জামান আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘ওপরের অংশে পানি যাওয়ার রাস্তা না থাকায় পানি জমে চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে পানির চাপে দেয়ালটি ভেঙে গেছে।’
লালদীঘি মাঠের বাম দিকের ওপরের অংশে অর্থাৎ পাহাড়ের ওপর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তর। সেখানে ভবন নির্মাণের কাজ। দিন-রাতের টানা বৃষ্টির কারণে পানি জমে মাটি নরম হয়ে নিচের দেয়ালের দিকে চাপ সৃষ্টি করে দেয়ালটি ভেঙে যায়।
দেয়ালটি পুনর্নির্মাণ কখন হবে বলে জানান প্রধান শিক্ষক। বলেছেন, ‘আমরা ফোন করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানিয়েছি। সিটি করপোরেশনকেও জানানো হবে। এটির কাজ কারা করবে তা এখনো ঠিক হয়নি।’



