এমন যদি হতো…

গ্রাফিক্স: আগামীর সময়
আমার সন্তানের জন্মের পরপরই বাড়িতে নেমেছিল উপহারের ঢল। পোশাক বা খেলনা থেকে শুরু করে সোনার চেইন; কী ছিল না সেখানে! নানা উপহারের মধ্যে আমরা পেলাম একটি শক্তপোক্ত চমৎকার স্ট্রলার। মনে মনে খুশি হয়েছিলাম, এটাতে বসিয়ে ছেলেকে নিয়ে ঘোরাঘুরি করা যাবে শহরে। সে সময় কত দিন কল্পনায় ঢাকার ফুটপাতে হেঁটেছি ছেলের স্ট্রলার ঠেলে ঠেলে।
একদিন ফুটপাতে হাঁটতে হাঁটতে মনের মধ্যে উঁকি দেয় এক দৃশ্যকল্প- আট মাস বয়সী ছেলেকে স্ট্রলারে বসিয়ে ফার্মগেট থেকে যাচ্ছি কারওয়ান বাজারের দিকে। বসন্তের মৃদুমন্দ বাতাসে ঝকঝকে ফুটপাত ধরে স্ট্রলার ঠেলে এগিয়ে যেতে ভালোই লাগছে!
কিন্তু হঠাৎ ভাঙা কীসে যেন হোঁচট খেয়ে ফিরলাম বাস্তবে। চারদিকে হট্টগোল, হর্নের তীব্র শব্দ, ভাঙা ফুটপাত জুড়ে হকারের উৎপাত!
ওই ঘটনার কিছুদিন পরে সুযোগ হলো ইউরোপের দেশ ডেনমার্ক ভ্রমণের। কী অদ্ভুত! ওখানে সড়ক থেকে শুরু করে শপিং মল, সবকিছুই যেন নকশা করা হয়েছে স্ট্রলার বা হুইলচেয়ার নিয়ে চলাচলের জন্য। এমনকি স্ট্রলার নিয়ে উঠে পড়া যাচ্ছে পাবলিক বাসেও!
সঙ্গে একটি স্ট্রলার থাকলে শপিং মল বা যেকোনো কাজের অপেক্ষমাণ সারিতে সবাই সরে গিয়ে আগে জায়গা করে দেবে আপনাকে। পার হবেন রাস্তা? স্ট্রলারসহ কোনো মা-বাবাকে ফুটপাতে অপেক্ষমাণ দেখলে অন্তত আধা কিলোমিটার আগে থেকে গাড়িগুলো গতি কমিয়ে তাকে পার হওয়ার করে দেবে সুযোগ।
আমি দেখি আর বিস্মিত হই! এ কেমন দেশ! আবার ভাবি, এমন যদি হতো; দেশেও একই রকম সুযোগ-সুবিধা পেতাম আমরা!
ইউএস নিউজের প্রতিবেদনে এক জরিপের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শিশুপালনের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো দেশ ডেনমার্ক। ২০২৪ সালের ওই জরিপে মানবাধিকার, বন্ধুত্বপূর্ণ পারিবারিক পরিবেশ, লিঙ্গসমতা, সুখ, আয়ে সমতা, নিরাপত্তা, উন্নত সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলোকে দেওয়া হয়েছে গুরুত্ব।
বিপরীতে ওই জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮।
আমি প্রায়ই ভাবি; বাংলাদেশের অভিভাবকরাও সন্তান লালনপালনে ডেনমার্কের মতো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, শহরের পথগুলো হয়ে উঠছে শিশুবান্ধব, মায়েরা বিকেল বেলা স্ট্রলারে শিশুকে বসিয়ে বের হচ্ছেন হাঁটতে, পাড়ায়-পাড়ায় তৈরি হচ্ছে পার্ক-মাঠ। যেগুলো বিকেল হলেই মুখর হয়ে উঠছে শিশুদের কলতানে।
দেশে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও আমিও স্বপ্ন দেখা বন্ধ করিনি। কোনো না কোনোদিন, নিশ্চয়ই আমাদের দেশ হবে শিশুদের স্বর্গরাজ্য। যে শিশুরা এখন খেলার মাঠ পাচ্ছে না, হয়তো তারাই গড়বে শিশুবান্ধব বাংলাদেশ।



