জাতিসংঘ
এবার কি শেষ হবে প্রথম নারী মহাসচিবের অপেক্ষা
- ৫ নারীসহ ৮ প্রার্থীর জমজমাট লড়াই

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর কূটনৈতিক মঞ্চের শীর্ষ চেয়ারে এবার কি বসতে যাচ্ছেন একজন নারী? জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে আট প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন নারী। ফলে নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রতিযোগিতা এবার শুধু কে জয়ী হবেন, সেই প্রশ্নে আটকে নেই। সামনে এসেছে আরও বড় প্রশ্ন, প্রতিষ্ঠার প্রায় ৮০ বছর পর জাতিসংঘ কি প্রথমবারের মতো একজন নারীকে মহাসচিব হিসেবে বেছে নেবে?
বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর। পরদিন, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি নতুন মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়ার কথা। সময় যত এগিয়ে আসছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে ততই বাড়ছে কূটনৈতিক আলোচনা ও আন্তর্জাতিক আগ্রহ।
আলোচনায় থাকা আট প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান, গায়ানার ক্যারোলিন রড্রিগেস-বিরকেট, আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশেলেট, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা, সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল, উগান্ডার ওলারি ওতুনু এবং ইকুয়েডরের ইভোন বাকী।
এই তালিকায় পাঁচ নারী প্রার্থীর উপস্থিতিই সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে। কারণ জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো নারী মহাসচিবের দায়িত্ব পাননি। এবার সেই দীর্ঘ ইতিহাস বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে জাতিসংঘের মহাসচিব হওয়া কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। সাধারণ পরিষদ মহাসচিব নিয়োগ করলেও তার আগে নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ প্রয়োজন। ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়ার পাশাপাশি পাঁচ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সম্মতিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের যেকোনো একটি দেশের ভেটো পুরো সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
ফলে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত যোগ্যতার পাশাপাশি বড় শক্তিগুলোর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক হিসাবও এবার বড় ভূমিকা রাখবে। যুদ্ধ, শান্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, শরণার্থী সংকট ও বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে কে কী অবস্থান নেন, সেটিও বিবেচনায় আসবে।
বাংলাদেশের জন্যও এই নির্বাচন কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, রোহিঙ্গা সংকট ও উন্নয়ন ইস্যুতেও জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই নতুন মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা ঢাকার জন্যও কেবল আন্তর্জাতিক খবর নয়, গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা।
বিশ্ব যখন একের পর এক যুদ্ধ, সংঘাত ও মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিবকে নিতে হবে কঠিন সিদ্ধান্ত এবং সামলাতে হবে পরস্পরবিরোধী বিশ্বশক্তিকে।
এখন তাই সবার চোখ আট প্রার্থীর দিকে। শেষ পর্যন্ত কি পাঁচ নারীর একজন ইতিহাস লিখবেন? নাকি আবারও কোনো পুরুষ প্রার্থীই জাতিসংঘের শীর্ষ কূটনৈতিক চেয়ার দখল করবেন? উত্তর মিলবে আগামী কয়েক মাসের কূটনৈতিক দর-কষাকষি ও ভোটাভুটিতে।






