ভেনেজুয়েলার তেলের মজুদ আসলে কত?

প্রতীকী ছবি
গত মাসে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নিউইয়র্কে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ভেনেজুয়েলার লাখ লাখ ব্যারেল তেল বিক্রির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুদ রয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল। যা যুক্তরাষ্ট্রের মজুদের তুলনায় পাঁচ গুণেরও বেশি।
এই বিপুল পরিমাণ তেল দেখতে কেমন— এই প্রশ্নের উত্তর দিতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা আকার, আয়তন ও ব্যবহারের তুলনা করে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল মজুদকে আরও সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছে।
ত্রিমাত্রিক পরিসরে ভেনেজুয়েলার তেলের বিশালতা
যদি ভেনেজুয়েলার সব তেল একটি বিশাল নলাকার ট্যাংকে রাখা হয়, তবে সেই ট্যাংকটির উচ্চতা হবে ১.৬ কিলোমিটার (প্রায় ১ মাইল)। এর ব্যাস হবে ৬.২ কিলোমিটার (প্রায় ৪ মাইল)।
এক মাইল উচ্চতার অর্থ হচ্ছে নিউইয়র্কের ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবনটি পরপর তিনবার যুক্ত করলে যে উচ্চতা হবে তার সমান, এই ভবনের উচ্চতা ৫৪১ মিটার।
এত বড় এই ট্যাংকটির বিস্তার হবে ম্যানহাটনের অর্ধেক এলাকা জুড়ে।
বিশ্বের মোট প্রমাণিত তেল মজুদ প্রায় ১.৭৩ ট্রিলিয়ন ব্যারেল। এর মধ্যে ভেনেজুয়েলায় রয়েছে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
ভেনেজুয়েলার তেল দিয়ে কত স্টেডিয়াম ভরা যাবে?
এই তেলকে পরিচিত কোনো কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। মিশিগান স্টেডিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম, যেখানে বসার ক্ষমতা ১ লাখ ৭ হাজার ৬০১ জনের।
মাঠ থেকে গ্যালারি পর্যন্ত যদি পুরো স্টেডিয়ামটি তেলে ভরে দেওয়া হয়, তাহলে ভেনেজুয়েলার তেল দিয়ে প্রায় ৬৪ হাজার মিশিগান স্টেডিয়াম ভরা যাবে।
এই তেল ঢালার কাজ হবে ধীর ও আঠালো, কারণ ভেনেজুয়েলার তেল অনেকটা তার বা বিটুমেনের মতো ঘন। এটি ‘এক্সট্রা হেভি ক্রুড’ হিসেবে পরিচিত, যা তুলনামূলকভাবে উত্তোলন করা কঠিন ও ব্যয়বহুল।
এই ধরনের তেল পরিশোধনের জন্য উন্নত প্রযুক্তি দরকার, যা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ও লুইজিয়ানা রাজ্যে রয়েছে।
এক ব্যারেল তেল আপনাকে কতদূর নিয়ে যেতে পারে?
এক ব্যারেলে থাকে ১৫৯ লিটার অপরিশোধিত তেল বা ৪২ গ্যালন। পরিশোধনের পর এই তেল থেকে পেট্রোল, ডিজেল, জেট ফুয়েল এবং প্লাস্টিক, পরিষ্কারক সামগ্রী এমনকি লোশনও তৈরি হয়।
এক ব্যারেল তেল থেকে সাধারণত প্রায় ৭৩ লিটার বা ১৯.৩৫ গ্যালন পেট্রোল পাওয়া যায়। একটি পিক-আপ ট্রাক যদি ১ গ্যালন পেট্রোলে ২৪ মাইল চলে, তবে এক ব্যারেল তেল থেকে সে ট্রাকটি চলতে পারবে প্রায় ৭৩০ কিলোমিটার বা ৪৫০ মাইল, অর্থাৎ, এক ব্যারেল তেল একটি ট্রাককে নিউইয়র্ক সিটি থেকে ক্লিভল্যান্ড, ওহাইও পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে।
এখন এটাকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ব্যবহারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৮৫ মিলিয়ন মোটরযান রয়েছে এবং দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৯ মিলিয়ন ব্যারেল পেট্রোল ব্যবহার করে।
যদি ভেনেজুয়েলার সব অর্থাৎ ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেলই পেট্রোলে রূপান্তর করা হয়, তবে বর্তমান ব্যবহারের হারে এটি যুক্তরাষ্ট্রের যানবাহনের চাহিদা প্রায় ৪০ বছর পূরণ করতে পারবে।
৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মূল্য কত?
বিশ্ববাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত ব্রেন্ট ক্রুড সাম্প্রতিক সময়ে ব্যারেলপ্রতি ৬০-৭০ ডলার দরে লেনদেন হয়েছে।
কিন্তু ভেনেজুয়েলার তেল ঘন ও সালফারের মাত্রা বেশি হওয়ায় এর দাম তুলনামূলকভাবে কম।
ভেনেজুয়েলার ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেল যদি ব্যারেলপ্রতি ৪৫ ডলার দরে বিক্রি করা হয়, তবে মোট মূল্য হবে ১৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলার।
আর ব্যারেলপ্রতি ৫০ ডলার করে বিক্রি হলে মোট মূল্য দাঁড়াবে ১৫.১৫ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ব্যারেলপ্রতি ৫৫ ডলার করে বিক্রি হলে ভেনেজুয়েলার তেলের মোট মূল্য হবে ১৬.৬৬ ট্রিলিয়ন ডলার।

