জার্মান গণমাধ্যমের প্রতিবেদন
খামেনির বিদায়ে ৩ হাজার প্রাণহানির শঙ্কা, প্রস্তুত কবর!

সংগৃহীত ছবি
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তাকে শেষ বিদায় জানাতে চলছে কয়েক দিনব্যাপী কর্মসূচি। শেষযাত্রাকে ঘিরে নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। লাখো মানুষের সমাগমের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই শঙ্কা থেকেই নেওয়া হয়েছে জরুরি প্রস্তুতি। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডি ভেল্ট-এর দাবি, ইরানি কর্মকর্তারা দেড় হাজার থেকে তিন হাজার মানুষের সম্ভাব্য প্রাণহানির আশঙ্কা মাথায় রেখে আগাম পরিকল্পনা করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক দিনব্যাপী শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগম, তীব্র গরম এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে এমনটাই। সে কারণেই তেহরানের বেহেশত-ই জাহরা কবরস্থানে হাজারো নতুন কবর রাখা হয়েছে প্রস্তুত। সম্ভাব্য নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্ত ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বিশেষ ইউনিটও গঠন করা হয়েছে।
নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেহরান সিটি করপোরেশনের এক কর্মী ডি ভেল্টকে বললেন, ‘প্রস্তুত করা কবরগুলো বাস্তবেই রয়েছে। এত বড় জনসমাগম ও প্রচণ্ড গরমে কী ঘটতে পারে, তা কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না।’
৮৬ বছর বয়সী আলী খামেনি গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন। তার মৃত্যুর পর দেশজুড়ে শোক ঘোষণা করা হয়। এরপর কয়েক দিনব্যাপী শেষকৃত্যের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
শনিবার তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষকৃত্য শুরু হয়েছে। এরপর শোকযাত্রা যাবে পবিত্র শহর কোমে। সেখান থেকে নেওয়া হবে ইরাকের নাজাফ ও কারবালায়। আগামী বৃহস্পতিবার মাশহাদে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে। শেষকৃত্যকে ঘিরে তেহরানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী। লাখো শোকাহত মানুষকে বহনের জন্য রাখা হয়েছে হাজার হাজার বাস। দর্শনার্থীদের জন্য অস্থায়ী আবাসন, স্কুল, মসজিদ ও গণরান্নার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, বিপুল জনসমাগম, প্রচণ্ড গরম এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। তাই নিরাপত্তা ও উদ্ধার ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইরানে এর আগেও বড় শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
২০২০ সালে কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানির জানাজায় পদদলিত হয়ে অন্তত ৫৬ জন নিহত হন। আহত হন দুই শতাধিক মানুষ। এরও আগে ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির শেষকৃত্যেও বিশৃঙ্খলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
এদিকে খামেনির শেষকৃত্যকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না তেহরান। তাই রাজধানীর আকাশসীমায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীকে রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায়। তবে ডি ভেল্টের এই প্রতিবেদনের বিষয়ে ইরান সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সম্ভাব্য প্রাণহানির সংখ্যা বা কবর প্রস্তুতের তথ্যও সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।






