এক মাসে সৌদি লক্ষ্যবস্তুতে ৩১ হামলার দাবি হুতিদের

ছবি: রয়টার্স
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের পুরনো সংঘাত আবারও সমুদ্রপথ ও তেল স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ছে। মাত্র এক মাসে সৌদি লক্ষ্যবস্তুতে ৩১টি সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে হুতিরা, যার মধ্যে রয়েছে তেলবাহী জাহাজ, সামরিক স্থাপনা ও নৌযান। একই সময়ে সৌদি আরবের ৪৮টি তেলবাহী জাহাজকে আঞ্চলিক জলপথে চলাচল থেকে ঠেকানোর দাবিও করেছে তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বুধবার দেওয়া এক পোস্টে হুতিদের মুখপাত্র আমিন হাইয়ান বলেছেন, ২০ জুলাই থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত এসব অভিযান চালানো হয়েছে। তার দাবি, সৌদি আরবের সামরিক মোতায়েন ও ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের কথিত ঘটনার জবাব দিতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।
হাইয়ানের দাবি অনুযায়ী, এই সময়ে সৌদির আটটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ছিল লোহিত সাগরে এবং তিনটি এডেন উপসাগর ও আরব সাগরে। পাশাপাশি লোহিত সাগরে ১৪টি এবং আরব সাগর ও ভারত মহাসাগরে ৩৪টি—মোট ৪৮টি সৌদি তেলবাহী জাহাজকে চলাচল থেকে বিরত রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
এ ছাড়া সৌদির ইয়ানবু, নাজরান, জিজান ও আবহা অঞ্চলে এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেল স্থাপনাগুলোতে ৯টি অভিযান চালানোর দাবি করেছে হুতিরা। ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দর ও হোদেইদা সমুদ্রবন্দরে সৌদি হামলা এবং ইয়েমেনের সাদা ও হাজ্জাহ অঞ্চলের আকাশসীমায় কথিত লঙ্ঘনের জবাব হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তাদের।
হুতিদের দাবি, এসব অভিযানে শত শত সৌদি ও সৌদি-সমর্থিত যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছেন এবং বিপুল সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে। ইয়েমেনের মোখা উপকূলের কাছে দুটি উভচর অবতরণকারী জাহাজ এবং লোহিত সাগরে আরও ১০টির বেশি সামরিক নৌযান ডুবিয়ে দেওয়া বা অকার্যকর করার দাবিও করেছে তারা।
তবে হুতিদের এসব দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি।
হাইয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রিয়াদ নতুন করে উত্তেজনা বাড়ালে তার জবাবও ‘সমানুপাতিকভাবে’ দেওয়া হবে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। হুতিরা এরই মধ্যে সৌদি ভূখণ্ড ও জ্বালানি স্থাপনায় একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি







