রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের হামলায় নিহত ১, আহত ১১

সিসিটিভি ফুটেজে সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার মুহূর্তে আগুন ও ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও হামলা হয়েছে। রবিবার একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে একজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন।
সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ) এ তথ্য জানিয়েছে। নিহত ব্যক্তি সৌদি আরবে বসবাসকারী একজন পাকিস্তানি নাগরিক। আহতদের চিকিৎসার জন্য কয়েকটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দরের ৩ ও ৪ নম্বর টার্মিনালে হামলা হয়েছে। এসব টার্মিনাল অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য ব্যবহার করা হয়। হামলার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও নিরাপত্তা পরীক্ষা শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, রবিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি উড়োজাহাজের কাছে একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে আগুন ধরে যায়।
ওই সময় তার উড়োজাহাজটি রানওয়ের দিকে যাচ্ছিল। হামলার পর সেটি আবার টার্মিনালে ফিরে যায়। পরে যাত্রীদের নামিয়ে বিমানবন্দর ছেড়ে যেতে বলা হয়।
এর আগের দিন শনিবারও কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হিসাবে, ওই হামলায় ১২ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হন।
তবে শনিবারের হামলায় আহত এক ভারতীয় নাগরিক রবিবার মারা গেছেন বলে জানিয়েছে সৌদি আরবে ভারতের দূতাবাস। এতে ওই হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
গত পাঁচ দিনে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চারবার হামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার হুতিদের হামলায় অন্তত তিন সৌদি নাগরিক নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন পাইলটও ছিলেন।
রবিবারের হামলার আগের হামলাগুলোর দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুতিরা। তবে সর্বশেষ হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি।
শনিবারের হামলার পর থেকেই বিমানবন্দরটি বন্ধ রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরবে শনিবারের হামলাটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী।
সৌদি আরবে ধারাবাহিক হামলার মধ্যে ইয়েমেনের সংঘাতও তীব্র হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যদিকে গত মাসে বাব আল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা দখল করেছে হুতিরা। এসব এলাকা পুনর্দখলের চেষ্টা করছে সৌদি জোট।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নেবে কি না, তা বিবেচনা করছেন তিনি। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
সূত্র : আল জাজিরা




