মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল ভবনে নতুন তালা লাগাল ঋতব্রত গোষ্ঠী

কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল ভবন। ছবি : আগামীর সময়
প্রতীক, দলীয় তহবিল এবং সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলা টানাপোড়েনের আবহে এবার নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলো পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর তৃণমূল ভবন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের একদল নেতা ও কর্মী সেখানে পৌঁছে কার্যালয়ের দখল নেওয়ার দাবি করেন। শুধু তাই নয়, কার্যালয়ের মূল ফটকে নতুন তালা লাগানো হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
ঋতব্রত শিবিরের দাবি, এই কার্যালয় দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের আবেগ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সেই কারণেই ভবিষ্যতে এখান থেকেই সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তাদের বক্তব্য, দলকে ঘিরে চলা বর্তমান বিতর্কের মধ্যেও প্রকৃত কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে এই কার্যালয়ের গুরুত্ব অপরিসীম।
শুক্রবার সন্ধ্যায় কার্যালয়ে পৌঁছনোর পর ঋতব্রত শিবিরের নেতারা ভবনের বাইরে নতুন পোস্টার টাঙান। সেই পোস্টারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও ছবি ছিল না। পরিবর্তে দলীয় চেয়ারম্যান হিসেবে অরূপ রায়ের নাম উল্লেখ করা হয়। এই ঘটনাই রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
ঋতব্রত শিবিরের অন্যতম নেতা আখরুজ্জামান আনসারি বলেছেন, ভবনের মালিক মন্টু সাহার সঙ্গে আমাদের একটি চুক্তি হয়েছে। সেই চুক্তির ভিত্তিতেই আমরা কার্যালয়ে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর কথায়, এই ভবন বহু বছর ধরে তৃণমূল কর্মীদের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। তাই এখান থেকেই আমরা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালাতে চাই। তিনি আরও জানান, বর্তমানে কার্যালয়ের চাবি তাদের কাছেই রয়েছে এবং আপাতত সেটি অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই।
এদিকে এই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং দলের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী উপাসনা চৌধুরী। তবে মূল ফটকে তালা থাকায় তারা কার্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ ঘটনাটিকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন।
তার অভিযোগ, যারা বর্তমানে কার্যালয়ের দখল দাবি করছেন, তারা দলের স্বীকৃত সাংগঠনিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে এই পদক্ষেপ করেছেন। কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তারা কোনওভাবেই জোর করে তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকবেন না। বরং পুরো বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে আনা হবে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত সেই স্তর থেকেই নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দলীয় প্রতীক ও সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির নিজেদেরই আসল তৃণমূল বলে দাবি করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বও নিজেদের সাংগঠনিক বৈধতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। একই সময়ে দলীয় তহবিল ও ব্যাঙ্ক হিসাব সংক্রান্ত বিষয়ও আদালতে পৌঁছেছে, যা এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।




