ককরোচ পার্টির বিক্ষোভে ধরপাকড়, আটক ৬

দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকরা- রয়টার্স
দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে শনিবার ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অনলাইন আন্দোলনের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে— এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাদের আটক করা হয়।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বিক্ষোভ যেন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় এবং বড় ধরনের কোনো আইনশৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে আয়োজিত এই বিক্ষোভে শত শত মানুষ অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী ও তরুণ চাকরিজীবী। পরীক্ষা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তারা যন্তর মন্তরে জড়ো হয়েছিলেন।
কর্মকর্তারা জানান, বিক্ষোভ স্থলের কাছাকাছি এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করার অভিযোগে ওই ছয় ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে ছিল। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তরসহ ভারতের রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। নয়াদিল্লি জেলা ও অন্যান্য সংবেদনশীল এলাকায় হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও দিল্লির সীমান্ত প্রবেশপথগুলোয় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ভিড় সামলাতে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলোর মধ্যে সংঘাত ঠেকাতে সমাবেশস্থলের চারপাশে দেওয়া হয়েছে ব্যারিকেড।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অনেককে প্রতীকী প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ককরোচ বা আরশোলার মাস্ক পরা এবং হাতে ফুল নিয়ে থাকতে দেখা যায়। বেশ কিছু স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীও তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে এই সমাবেশে যোগ দেয়। বিক্ষোভকারীরা পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার কথিত অনিয়মের জবাবদিহি চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মূলত নিট, সিইউইটি, সিবিএসই সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা এবং এসএসসি নিয়োগ পরীক্ষার মতো বেশকিছু ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগে তরুণদের অনলাইন আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে সিজেপির। গত ১ মাস ধরে পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং জবাবদিহির দাবি জানিয়ে সামাজিকমাধ্যমে গ্রুপটি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বড় ধরনের জমায়েত এবং বিরোধী কোনো পক্ষ বিক্ষোভ পণ্ড করার চেষ্টা করতে পারে— এমন আশঙ্কায় সমাবেশের আগেই নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছিল দিল্লি পুলিশ।






