বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্যের জেরে রাধারমণ দাসকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠাল ইসকন

ইসকন নেতা রাধারমণ দাস। ছবি : সংগৃহীত
ইসকনের অন্যতম পরিচিত মুখ রাধারমণ দাসকে সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে তার একাধিক বিতর্কিত জনমত। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সূত্র ও ইসকনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, বাংলাদেশ নিয়ে তার ধারাবাহিক মন্তব্য এবং পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলোতে মিড-ডে মিল প্রকল্পকে ঘিরে প্রকাশ্য অবস্থানই এই পদক্ষেপের নেপথ্যে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
দীর্ঘদিন ধরে কলকাতায় ইসকনের সহ-সভাপতি এবং সংগঠনের অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন রাধারমণ দাস। সামাজিক মাধ্যমে তার সক্রিয় উপস্থিতি এবং সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত বক্তব্যের কারণে তিনি ভক্তমহলের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু সেই সক্রিয়তাই শেষ পর্যন্ত সংগঠনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মনে করা হচ্ছে।
ইসকনের তরফে জানানো হয়েছে, রাধারমণ দাসকে আপাতত বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং তিনি আর সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে কোনও সংবাদমাধ্যম, সরকারি দফতর বা জনসমক্ষে বক্তব্য রাখতে পারবেন না। কারণ হিসেবে সংগঠন বলেছে, তিনি একাধিক ক্ষেত্রে নিজের নির্ধারিত দায়িত্ব ও সীমার বাইরে গিয়ে মন্তব্য করেছেন।
বিশেষ করে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ এবং সেখানে ইসকনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে চলা বিতর্কে রাধারমণ দাস বারবার প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন। ইসকনের বক্তব্য, বাংলাদেশ শাখার আপত্তি ও সতর্কবার্তা সত্ত্বেও তিনি এই বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে গিয়েছেন।
শুধু বাংলাদেশ প্রসঙ্গই নয়, পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলিতে বিজেপি সরকারের পরীক্ষামূলক 'নিরামিষ মিড-ডে' মিল প্রকল্প নিয়েও তার মন্তব্য বিতর্কের জন্ম দেয়। ডিমের পরিবর্তে সয়াবিন, রাজমা, ছানা ও অন্যান্য নিরামিষ খাদ্য থেকে শিশুদের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের জোগান সম্ভব বলে তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন। পুষ্টি ও শিক্ষানীতির মতো সংবেদনশীল বিষয়ে ইসকনের আনুষ্ঠানিক ভূমিকা না থাকা সত্ত্বেও তার এই মন্তব্য সংগঠনের অন্দরে অসন্তোষ তৈরি করেছে বলে জানা গিয়েছে।
ইসকনের অনেকেরই মতে, কোনও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধি যখন সামাজিক, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বিতর্কে নিয়মিত অবস্থান নিতে শুরু করেন, তখন তা সংগঠনের সরকারি অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। রাধারমণ দাসের ক্ষেত্রে ঠিক সেটাই ঘটেছে বলে মনে করছেন তারা। তবে মনে করা হচ্ছে বিষয়টির কেন্দ্রে রয়েছে দুটি প্রশ্ন- বাংলাদেশ নিয়ে তার ক্রমাগত প্রকাশ্য মন্তব্য এবং মিড-ডে মিলে ডিমের পরিবর্তে নিরামিষ খাদ্যের পক্ষে সরব অবস্থান।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক অরিন্দম ভট্টাচার্যের কথায়, বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এবং মিড-ডে মিল বিতর্ক - এই দুই ইস্যুতেই রাধারমণ দাস এমনভাবে সামনে চলে এসেছিলেন যে, তিনি ধীরে ধীরে ধর্মীয় সংগঠকের চেয়ে জনমত-নির্মাতা হিসেবেই বেশি পরিচিত হয়ে উঠছিলেন। ইসকনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই প্রবণতার ওপরই লাগাম টানার চেষ্টা বলে মনে হচ্ছে।





