চাকরি ছেড়ে ১১ মিনিট স্বাধীন ছিলাম, কেন বললেন নতুন উদ্যোক্তা মেহুল

মেহুল আগরওয়াল। ছবি : সংগৃহীত
অনেকেরই ধারণা, করপোরেট লাইফের চেনা চাকরি ছেড়ে নিজের ব্যবসা শুরু করলেই বুঝি অবারিত স্বাধীনতা পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবতার গল্পটা পুরোপুরি ভিন্ন। সেটাই এবার প্রমাণ করলেন মেহুল আগরওয়াল নামের এক ভারতীয় তরুণ।
নিজের চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পর মানসিক চাপ আর সংশয়ের এক রসাত্মক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তিনি। যা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
মেহুল তার ভিডিওতে জানালেন, চাকরি ছাড়ার পর মানুষ যে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখে, তা আসলে বড়জোর কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়। কারণ খুব দ্রুতই মানুষ টের পায়, এখন থেকে সব দায়িত্ব তাকে একাই সামলাতে হবে।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মেহুল ভিডিওতে বলেছেন, ‘চাকরিটা ছাড়ার পর আমি মাত্র ১১ মিনিটের জন্য নিজেকে পুরোপুরি স্বাধীন ভেবেছিলাম। কিন্তু যেই না ল্যাপটপটা খুললাম, তখনই টের পেলাম— এখন থেকে সব কাজ আর সিদ্ধান্তের গুরুভার কেবলই আমার।’
মেহুল আরও জানালেন, চাকরি ছাড়ার পর তার চিন্তাভাবনায় বড় পরিবর্তন এসেছে। কিছুদিন আগেও তিনি সারাক্ষণ ভাবতেন, তার বস তাকে দিয়ে কত বেশি কাজ করিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু চাকরি ছাড়ার পর তিনি বুঝলেন, ওপরে কোনো বস না থাকার মানেই দায়িত্ব কমে যাওয়া নয়।
উদ্যোক্তা জীবনের শুরুর দিনগুলোর কথা মনে করে মেহুল বলেছেন, প্রথম প্রথম তার ভেতর ছিল আকাশচুম্বী উদ্দীপনা। প্রথম দিন সকাল ৬টায় ঘুম থেকে উঠেই একজন ফাউন্ডারসুলভ এনার্জি নিয়ে তিনি তার কোম্পানির আগামী তিন মাসের পরিকল্পনা করে ফেলেন। দিনটি ছিল ভীষণ প্রোডাক্টিভ।
দ্বিতীয় দিনও একই উদ্দীপনা নিয়ে তিনি খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন। এদিন পুরো পরিকল্পনাটি আবার নতুন করে সাজান। এই দিনটিও বেশ ভালোভাবেই কাটে তার।
কিন্তু আসল ধাক্কাটা আসে তৃতীয় দিনে। মেহুল জানালেন, সেদিনও তিনি সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেছিলেন ঠিকই, কিন্তু আগের সেই উদ্দীপনা উধাও হয়ে গিয়েছিল। নিজের তৈরি করা ওই পরিকল্পনার দিকে তাকিয়ে তিনি তীব্র নার্ভাসনেস অনুভব করেন। জীবনের নেওয়া এই বড় সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে তার মনে সংশয় জাগতে শুরু করে।
চতুর্থ দিনের কথা বলতে গিয়ে মেহুল হেসেই ফেলেন। তিনি জানালেন, চতুর্থ দিনে আর কোনো বিজনেস প্ল্যান নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে নিজের এই তিন দিনের চড়াই-উতরাইয়ের অভিজ্ঞতা নিয়েই একটি ভিডিও বানিয়ে ফেলেন তিনি।
ভিডিওটি বর্তমানের তরুণ চাকরিজীবী এবং নতুন উদ্যোক্তাদের মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছে।
অনেকে কমেন্ট বক্সে জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তারাও ঠিক একই ধরনের মানসিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন। তাদের বেশিরভাগই মেহুলের ব্যবসা নিয়ে এমন স্পষ্টভাষী আলোচনার প্রশংসা করছেন।
সূত্র : এনডিটিভি




