মোদির এক শব্দবন্ধেই নতুন পার্টির আত্মপ্রকাশ, ৩ দিনেই ১.৮ লাখ অনুসারী

সংগৃহীত ছবি
১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণে উচ্চারিত একটি শব্দবন্ধকে ঘিরে এবার তৈরি হলো নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক পার্টি। ‘দিমাগি নকশাল পার্টি’ নামে একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট আত্মপ্রকাশের পর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই নজর কেড়েছে সেটি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) অ্যাকাউন্টটির অনুসারীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজারেরও বেশি। অন্যদিকে, একই নামে একটি এক্স অ্যাকাউন্টেও কয়েক হাজার অনুসারী জড়ো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ১৫ আগস্ট দিল্লির লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ থেকে। মাওবাদী সশস্ত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে মোদি জানান, জঙ্গলে সক্রিয় সশস্ত্র নকশালদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশ বড় অগ্রগতি করেছে। তবে তার বক্তব্যে উঠে আসে ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধ। তার দাবি, ‘সশস্ত্র নকশালদের প্রভাব কমলেও তাদের মতাদর্শে বিশ্বাসী কিছু মানুষ এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।’
এর পরেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। অনেক বিশিষ্টজন মোদির মন্তব্যের সমালোচনা করে নিজেদের ‘গর্বিত দিমাগি নকশাল’ বলেন। অন্যদিকে, ‘Dimagi Naxal Party’ নামে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটির পরিচিতিতে দেওয়া হয়েছে—“Think | Research | Resist”। সেখানে প্রতিষ্ঠাতার পরিচয় হিসেবে ‘A Dimagi Indian’ এবং সহপ্রতিষ্ঠাতার ক্ষেত্রে ‘56 Inch ka’ লেখা রয়েছে। অ্যাকাউন্টটির নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠাতা বা পরিচালকদের পরিচয় অবশ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
শুধু ইনস্টাগ্রামেই থামেনি এই উদ্যোগ। এক্স-এ ‘Dimagi Naxal Janta Party’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়েছে। সেখানে রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, অরবিন্দ কেজরীবাল, ধ্রুব রাঠী, কুণাল কামরা, প্রকাশ রাজ এবং ফ্যাক্ট-চেকার মহম্মদ জুবেরসহ একাধিক পরিচিত ব্যক্তি অ্যাকাউন্টটিকে অনুসরণ করছেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এদিকে, সোমবার ওই সংগঠনের তরফে এক্সে দাবি করা হয়েছে, তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই সাইবার হামলা শুরু হয়েছে। পোস্টে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তাদের কণ্ঠস্বর থামানো সম্ভব হবে কি না। একই সঙ্গে দিমাগি নকশাল সংগঠনটি নিজেদের ভগৎ সিংয়ের অনুসারী বলেও দাবি করেছে।
মোদির ওই মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও ইতিমধ্যে তীব্র হয়েছে। কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম প্রকাশ্যেই নিজেকে ‘গর্বিত দিমাগি নকশাল’ বলে মন্তব্য করেছেন। কংগ্রেসের অন্য নেতারাও প্রধানমন্ত্রীর এই শব্দবন্ধের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ফলে লালকেল্লার ভাষণে ব্যবহৃত একটি রাজনৈতিক শব্দ এখন দ্রুত জায়গা করে নিয়েছে সমাজমাধ্যমের ব্যঙ্গ, প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক বিতর্কে।







