বাংলাদেশের মতো পটপরিবর্তনের চেষ্টা চলছে ভারতে, দাবি বিজেপির

বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি (বামে) ও এআইএসএ সভাপতি নেহা বোরা— সংগৃহীত ছবি
দুই বছর আগের বাংলাদেশের জেন-জি আন্দোলন ‘ভারতের তরুণদের পথ দেখিয়েছে’। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ফেসবুক পেজে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরার এমনই একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ হয়। এমন মন্তব্য ঘিরে বৃহস্পতিবার ভারতে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শুরু হয়েছে।
বিজেপি অভিযোগ করেছে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও বিরোধীরা ভারতে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। কংগ্রেসের পাল্টা অভিযোগ, তরুণ বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠ রোধ করতে ক্ষমতাসীন দল গণতন্ত্রের কথা বলছে।
বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বোরার বক্তব্যের ভিডিও শেয়ার করেন। তাকে রাহুল গান্ধীর ‘পোস্টার গার্ল’ আখ্যা দিয়ে ভান্ডারি অভিযোগ করেন, বোরার মন্তব্যে বিরোধীদের উদ্দেশ্য প্রকাশ পেয়েছে।
এক্সে ভান্ডারি লেখেন, ‘রাহুল গান্ধীর পোস্টার গার্ল নেহা বোরার বক্তব্য—বিপ্লবের জন্য বাংলাদেশ আমাদের পথ দেখিয়েছে। এটি সরকার পরিবর্তনের বিষয়ে প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি! রাহুল গান্ধী ও তার সহযোগীরা ভারতের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি!’
অন্য একটি পোস্টে ভান্ডারি দাবি করেন, বোরার বক্তব্যে বোঝা যায়, সরকারের বিরোধিতা কেবল রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয় নয়। তার অভিযোগ, কংগ্রেস নেতা ও তার মিত্ররা বাংলাদেশে যে সরকার পরিবর্তন হয়েছে, ভারতে তার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চান।
বিতর্কের জবাবে কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভি বিজেপির সমালোচনা করে বলেন, বিরোধীরা যখন গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই করছেন, তখন বিজেপি সেই গণতন্ত্রেরই দোহাই দিচ্ছে।
আলভি বললেন, ‘আমরা যে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য লড়াই করছি, বিজেপি সেই গণতন্ত্রেরই দোহাই দিচ্ছে। পুরো জাতি এই লড়াই করছে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে কেন? কারণ তিনি ভারতের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন…।’
কংগ্রেসের এই নেতা আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রের নাম নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি তরুণদের এই কণ্ঠস্বর দমন করতে পারবে না…। প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ হওয়া উচিত। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে আমরা তা সমর্থন করি না, কখনো করিনি। ভারতে সরকার পরিবর্তন হলে তা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই হবে।’
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এলো।
বোরা বিক্ষোভের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। ১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপকের ডাকা বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি চলাকালে তাকে আটক করা হয়েছিল।
যন্তর মন্তরে নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও পুলিশের পদক্ষেপের কারণে সীমিত হয়ে পড়ে। রাজধানী জুড়ে হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। সে সময় প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর সাত হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছিল।
জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলোও রাজপথে নেমেছে। কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তাদের প্রচার জোরদার করেছে।
বিরোধী দলগুলো ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং কথিত অনিয়মের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে নির্বাচন কমিশন কোন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং সংশোধন প্রক্রিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে ব্যাপক গণআন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভের পর ওই দিন শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত দেশ জুড়ে বিক্ষোভে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা দেশব্যাপী কারফিউ উপেক্ষা করে তার বাসভবনের দিকে অগ্রসর হলে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে যান।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া





