যুক্তরাজ্য
কর্মজীবনের শুরুতে মিলেনিয়ালদের তুলনায় বেশি আয় জেন-জিদের

যুক্তরাজ্যে জেন-জি তরুণরা কর্মজীবনের শুরুতে একই বয়সে থাকা মিলেনিয়ালদের তুলনায় বেশি আয় করছেন- রয়টার্স
যুক্তরাজ্যে জেনারেশন জেডের (জেন-জি) তরুণরা কর্মজীবনের শুরুতে একই বয়সে থাকা মিলেনিয়ালদের তুলনায় বেশি আয় করছেন। এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে, যা ‘লস্ট জেনারেশন’ নিয়ে রাজনৈতিক উদ্বেগ কিছুটা কমাতে পারে।
থিঙ্ক ট্যাঙ্ক রেজল্যুশন ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া তরুণদের আয়, আবাসন ব্যয় বাদ দেওয়ার আগে, ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া মিলেনিয়ালদের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। অর্থের হিসাবে এটি বছরে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ পাউন্ড (প্রায় ৪ হাজার ৮৭০ ডলার) বেশি।
সাম্প্রতিক দশকগুলোতে প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির ধীরগতি এবং উচ্চ আবাসন ব্যয়ের কারণে এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মের জীবনমানের উন্নতি অনেকটাই থমকে গেছে।
রেজল্যুশন ফাউন্ডেশনের মতে, যুক্তরাজ্যে ন্যূনতম মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো এবং বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর কর্মজীবন শুরু করায় মিলেনিয়ালদের তুলনায় জেন-জি কিছুটা সুবিধা পেয়েছে।
তবে জেন-জির কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। দেশটিতে তরুণদের বেকারত্ব এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী ১০ লাখের বেশি তরুণ শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণ—কোনোটির সঙ্গেই যুক্ত নন।
এ পরিস্থিতিতে সাবেক মন্ত্রী অ্যালান মিলবার্নের নেতৃত্বে করা এক সরকারি পর্যালোচনায় ‘লস্ট জেনারেশন’ তৈরির ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে।
তবে অন্তত আর্থিকভাবে কিছুটা সুবিধায় রয়েছে জেন-জি। কারণ, বাড়িভাড়ার উচ্চ ব্যয়ের কারণে অনেক তরুণ নিজস্ব বাসা নেওয়ার বদলে মা-বাবার সঙ্গেই বসবাস করছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের ৬৩ শতাংশ এখনো পারিবারিক বাসায় থাকেন। ২০১১ সালের তুলনায় এ হার ১২ শতাংশ বেড়েছে।
রেজল্যুশন ফাউন্ডেশনের অর্থনীতিবিদ ললিতা ট্রাই বললেন, ‘অস্বাভাবিক উচ্চ ভাড়া ও বাড়ির দামই এই প্রবণতা বাড়িয়েছে।’
এদিকে একই দিনে প্রকাশিত ইনস্টিটিউট ফর ফিসক্যাল স্টাডিজের (আইএফএস) আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক স্নাতক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার আর্থিক সুফল পাচ্ছেন না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি চারজন স্নাতকের একজন সারা কর্মজীবনে বিশ্ববিদ্যালয়ে না পড়লে যতটা আয় করতে পারতেন, তার চেয়ে কম আর্থিক সুবিধা পাবেন। কারণ, উচ্চশিক্ষার জন্য অনেককে বড় অঙ্কের শিক্ষাঋণের বোঝা বহন করতে হচ্ছে।
তবে আইএফএসের হিসাব বলছে, কর ও শিক্ষাঋণসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিলেও একজন স্নাতক গড়ে কর্মজীবনে প্রায় ১ লাখ পাউন্ড বেশি আয় করতে পারেন।
তবে বিষয়ভেদে এই ব্যবধান অনেক। দর্শন ও সৃজনশীল শিল্পের মতো বিষয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়তে পারেন। বিশেষ করে পারফর্মিং আর্টসে স্নাতকদের গড়ে প্রায় ৬০ হাজার পাউন্ড ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। বিপরীতে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও অর্থনীতিতে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের আজীবন আয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচিত অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, যুক্তরাজ্যের শিক্ষানীতি দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্তভাবে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ছিল। তার মতে, কারিগরি শিক্ষা এবং দ্রুত কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করে এমন শিক্ষাপথে দেওয়া প্রয়োজন আরও বেশি গুরুত্ব।




