জনসমক্ষে জবাবদিহি করতে ভয় ব্রিটেনের হবু প্রধানমন্ত্রীর

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম- রয়টার্স
দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সংসদে এমপিদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে না যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে। এ নিয়ে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি অভিযোগ করেছে, নতুন প্রধানমন্ত্রী জনসমক্ষে জবাবদিহি এড়িয়ে যাচ্ছেন। তবে সরকার বলছে, নতুন প্রশাসন গঠনের জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।
আগামী সোমবার দেশটির ৫৯ তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন বার্নহ্যাম। কিন্তু এর আগেই আজ বৃহস্পতিবার থেকে গ্রীষ্মকালীন বিরতিতে যাচ্ছে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্স। ফলে আগামী ১ সেপ্টেম্বরের আগে তাকে সংসদে এসে প্রশ্নের জবাব দিতে হবে না।
কনজারভেটিভ পার্টি চেয়েছিল, সংসদের কার্যক্রম এক দিন বাড়িয়ে লেবারের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে বক্তব্য এবং এমপিদের প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য করা হোক। এ লক্ষ্যে বুধবার ভোটাভুটিরও পরিকল্পনা ছিল। তবে সরকার সেই বিতর্ক বাতিল করে জানায়, নির্ধারিত সময়ে ইরান-সংক্রান্ত আলোচনা ও জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক একটি বিধিবিধান নিয়ে আলোচনা হবে।
এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেত্রী কেমি ব্যাডেনক। তিনি বলেছেন, ‘নজিরবিহীনভাবে লেবার আমাদের সেই ভোটাভুটি বাতিল করেছে, যার মাধ্যমে আমরা অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সংসদে এসে প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য করতে চেয়েছিলাম। লেবার ভয় পেয়েছে, কারণ তারা জানে, বার্নহ্যামকে পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করতে হলেই তার মধুচন্দ্রিমা শেষ হয়ে যাবে।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও নতুন প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বার্নহ্যামকে ‘ম্যানচেস্টারের রহস্যময় ব্যক্তি’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের (ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন) পরবর্তী বাসিন্দার দ্রুত কাজে নেমে পড়া উচিত। তার হাতে খুব বেশি সময় নেই।’
সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ নাকচ করেছেন হাউজ অব কমন্সের নেতা অ্যালান ক্যাম্পবেল। তিনি বললেন, কনজারভেটিভরা সংসদের বিরতি পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব আনবে, তা তার জানা ছিল না। তার ভাষায়, ‘যদি সোমবার নতুন প্রশাসন গঠিত হয়, সেটি পুরোপুরি গুছিয়ে তুলতে কিছুটা সময় লাগবে।’
সরকারের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কনজারভেটিভ এমপি জেসি নরম্যান। তিনি বলেছেন, ‘এটি সরকারের জন্য সম্পূর্ণ অপমানজনক ও বিব্রতকর ঘটনা।’ তার দাবি, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের বদলে কার্যত অভিষেকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হতে যাওয়া বার্নহ্যামের কর্মসূচি, নীতি, অগ্রাধিকার বা মন্ত্রিসভা সম্পর্কে এখনো কিছুই জানা যায়নি। তাই জনগণের কাছে জবাবদিহির সুযোগ বিলম্বিত হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
একই ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাট এমপি ববি ডিন। তার মতে, কয়েক সপ্তাহ ধরেই কার্যত জানা ছিল কে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। তারপরও তার পরিকল্পনা নিয়ে সংসদীয় জবাবদিহির জন্য আরও দেড় মাস অপেক্ষা করতে হবে কেন, সেটি জনগণ জানতে চাইবে।
কনজারভেটিভ এমপি কেটি ল্যামও বলেছেন, আগামী দেড় মাস প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা যাচাইয়ের কোনো সুযোগ থাকবে না। তার প্রশ্ন, ‘জনগণ এর মূল্যায়ন কীভাবে করবে?’




