ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের খাবারের দাম ১ ইউরো, মিলবে তিন পদ

এতদিন এই বিশেষ সুবিধাটি কেবল বরাদ্দ ছিল নিম্নবিত্ত শিক্ষার্থীদের জন্য। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য এই খাবারের দাম ছিল ৩.৩০ ইউরো।
আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্সের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এখন থেকে আয়ের সীমা নির্বিশেষে সব শিক্ষার্থী ১ ইউরো খরচ করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে কিনতে পারবেন তিন পদের খাবার।
এতদিন এই বিশেষ সুবিধাটি কেবল বরাদ্দ ছিল নিম্নবিত্ত শিক্ষার্থীদের জন্য। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য এই খাবারের দাম ছিল ৩.৩০ ইউরো। ছাত্র সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিল, এই সুবিধা সবার জন্য উন্মুক্ত করার। যা এখন থেকে হয়েছে কার্যকর।
প্যারিসের ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আলেকজান্ডার আইওনাইডস জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে অনেক কমে যাবে তার মাসিক খরচ।
‘আমি মাসে অন্তত ২০ বার ক্যান্টিনে খাই। আগে যেখানে আমার ৬০ ইউরো খরচ হতো। এখন লাগবে মাত্র ২০ ইউরো। এই বাড়তি টাকা আমি অন্য কাজে খরচ করতে পারব’, কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেন আলেকজান্ডার।
এদিকে, ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে করা এক সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে ভয়াবহ এক তথ্য।
খাবারের মান যাতে ঠিক থাকে এবং ক্যান্টিন কর্মীদের ওপরে যেন অতিরিক্ত কাজের চাপ না পড়ে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
-ফিলিপ ব্যাপটিস্ট, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী, ফ্রান্স
সেখানে দেখা গেছে, প্রায় ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থী টাকার অভাবে ঠিকমতো খাবার কিনতে পারেন না। ২৩ শতাংশ শিক্ষার্থী মাসে বেশ কয়েকবার না খেয়ে থাকেন। এই সংকট কাটাতেই খাবারের দাম কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় রেস্তোরাঁ পরিচালক সংস্থা ক্রাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রায় পৌনে সাত লাখ শিক্ষার্থী এই সুবিধা গ্রহণ করেছেন। যা আগের বছরের তুলনায় ৫.৩ শতাংশ বেশি। গত এক বছরে ১ ইউরো এবং ৩.৩০ ইউরো, উভয় দরে প্রায় ৪ কোটি ৬৬ লাখের বেশি খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের এই বিপুল চাহিদা মেটাতে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে ফরাসি সরকার। দেশটির উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ফিলিপ ব্যাপটিস্ট জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের মধ্যে এই কর্মসূচির পেছনে ১২০ মিলিয়ন ইউরো ব্যয় করা হবে।
তিনি একে একটি ‘ছোটখাটো অভ্যন্তরীণ বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ফিলিপ ব্যাপটিস্ট বলেছেন, খাবারের মান যাতে ঠিক থাকে এবং ক্যান্টিন কর্মীদের ওপরে যেন অতিরিক্ত কাজের চাপ না পড়ে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান






