আগামীর সময়

খামেনিপুত্র ‘সমকামী’ শুনে হাসলেন ট্রাম্প

খামেনিপুত্র ‘সমকামী’ শুনে হাসলেন ট্রাম্প

সংগৃহীত ছবি

মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যানুসারে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্ভবত একজন সমকামী। এ কারণে তার বাবা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তাকে নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন যে তিনি শাসনের জন্য উপযুক্ত হবেন কিনা!

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম দ্য পোস্ট এই তথ্য জানিয়েছে।

তবে এ গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে ব্রিফিং করার সময় নিজের বিস্ময় চেপে রাখতে পারেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি উচ্চস্বরে হেসে ওঠেন।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত অন্যান্যরাও বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত হাস্যকর’ ভেবে ট্রাম্পের সঙ্গে হাসিতে ফেটে পড়েন। ব্রিফিং সংশ্লিষ্ট একজনের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তা কয়েক দিন ধরে বিষয়টি নিয়ে হাসি থামাতেই পারছেন না।

গোয়েন্দা সংস্থার দুই কর্মকর্তা ও হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি দ্য পোস্টের কাছে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন।

তিনটি সূত্রই বলছে, অবিশ্বাস্য হলেও অভিযোগটি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থারা বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে মনে করছে। কারণ এটি ৫৬ বছর বয়সী মোজতবাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো কোনো মিথ্যা তথ্য নয়। তিনি গত ৮ মার্চ তার প্রয়াত বাবার উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

দুটি সূত্র জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে মোজতবা তার শৈশবের গৃহশিক্ষকের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী যৌন সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন।

তৃতীয় সূত্রটি জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী এই সম্পর্কটি খামেনি পরিবারের সাবেক এক কর্মীর সঙ্গে ছিল।

মোজতবা খামেনির পুরুষদের প্রতি কথিত যৌন আকর্ষণের কোনো আলোকচিত্রগত প্রমাণ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে নেই। তবে সূত্রগুলো জোর দিয়ে বলেছে, এই তথ্যটি নির্ভরযোগ্য। একজন জানিয়েছেন, তথ্যটি সরকারের অন্যতম ‘সবচেয়ে সুরক্ষিত উৎস’ থেকে পাওয়া গেছে।

দ্বিতীয় এক সূত্রের দাবি, এই তথ্যটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের কারো থেকে পাওয়ার বিষয়টি সত্যতা প্রমাণ করে।

সূত্রমতে, অন্তত ২০২৪ সালের মে মাসে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যুর পর থেকেই ইরানের ভেতরে মোজতবার যৌন অভিরুচি নিয়ে কানাঘুষা চলছিল।

মার্কিন সরকারের ভেতরে একজন অভ্যন্তরীণ ব্যক্তি জানান, ‘এটি বেশ গোপনীয় একটি তথ্য হিসেবে রাখা হয়েছিল।’

মোজতবা খামেনির ব্যক্তিগত জীবনের কিছু দিক আগেও সংবাদে এসেছিল যা এই অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।

২০০৮ সালের একটি শ্রেণীবদ্ধ মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তা (যা উইকিলিকস প্রকাশ করেছিল) অনুসারে, মোজতবা নপুংসকতা বা যৌন অক্ষমতার চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন। যদিও সেই রিপোর্টে এই অবস্থার কারণ শনাক্ত করা হয়নি।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের ফাইলে বলা হয়েছে, মোজতবা জীবনের বেশ দেরিতে প্রায় ৩০ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন। জানা গেছে, তার যৌন অক্ষমতার সমস্যার কারণেই এমনটা হয়েছিল এবং লন্ডনের ওয়েলিংটন ও ক্রোমওয়েল হাসপাতালে তিনবার দীর্ঘ সফরের পর শেষ পর্যন্ত তা সমাধান হয়।

ফাঁস হওয়া ফাইলটিতে আরও বলা হয়েছে, ‘মোজতবার পরিবার তার কাছ থেকে দ্রুত সন্তান আশা করলেও চিকিৎসার জন্য তাকে চতুর্থবার যুক্তরাজ্যে যেতে হয়েছিল; সেখানে দুই মাস থাকার পর তার স্ত্রী গর্ভবতী হন।’

ইরানে সমকামী আচরণ অবৈধ। যদিও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তনের অনুমতি দেশটিতে আছে তবে অনেক সমকামী পুরুষকে ফৌজদারি শাস্তি এড়াতে এই অস্ত্রোপচার করতে বাধ্য করা হয় বলে জানা যায়।

সমকামীদের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ক্রেন থেকে প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কুখ্যাত নজির ইরানে রয়েছে।

তবে মোজতবা খামেনি বর্তমানে কোথায় আছেন এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করেনি।

    শেয়ার করুন: