স্যামসাংয়ের রেকর্ড ৮৭ হাজার কোটি টাকা মুনাফা

ছবি: রয়টার্স
বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপ এবং সেমিকন্ডাক্টরের চড়া চাহিদার ওপর ভর করে চলতি ২০২৬ সালের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে (এপ্রিল-জুন) রেকর্ড পরিমাণ পরিচালন মুনাফা অর্জন করতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স। আজ মঙ্গলবার কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রাথমিক আর্থিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
স্যামসাংয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে তাদের সম্ভাব্য পরিচালন মুনাফা দাঁড়াবে ১০.৭ ট্রিলিয়ন কোরিয়ান উওন (আনুমানিক ৭.৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৭ হাজার ১২০ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ের (২০২৫ সালের দ্বিতীয় কোয়ার্টার) তুলনায় এই মুনাফা প্রায় ১,৪৫৫ শতাংশ বা ১৪ গুণের বেশি বেড়েছে। ২০২৩ সালের চিপ সংকটের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পর এটিই স্যামসাংয়ের যেকোনো কোয়ার্টারে অর্জিত অন্যতম সর্বোচ্চ মুনাফার রেকর্ড।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্যামসাংয়ের এই অতি-উচ্চ মুনাফা অর্জনের প্রধান কারণ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের কারণে বিশ্বজুড়ে ডিআরএএম এবং এনএএনডি ফ্ল্যাশ মেমোরি চিপের দাম এবং চাহিদা দুটোই বিপুল পরিমাণে বেড়েছে। বিশেষ করে হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি চিপের বাজারে স্যামসাংয়ের একচেটিয়া সরবরাহ এই বিশাল মুনাফা অর্জনে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
মুনাফার পাশাপাশি কোম্পানির সামগ্রিক বিক্রির পরিমাণও এবার চাঙ্গা। চলতি দ্বিতীয় কোয়ার্টারে স্যামসাংয়ের মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৪ ট্রিলিয়ন কোরিয়ান উওন (প্রায় ৫৪.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ লাখ ২ হাজার ৮০ কোটি টাকা। এটি গত বছরের একই কোয়ার্টারের তুলনায় প্রায় ২৩.৫ শতাংশ বেশি।
আর্থিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারণা, বছরের বাকি দুই কোয়ার্টারে (তৃতীয় ও চতুর্থ কোয়ার্টার) চিপের এই চড়া দাম বজায় থাকলে ২০২৬ সালটি মুনাফার দিক থেকে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের ইতিহাসের অন্যতম সেরা বছর হিসেবে গণ্য হবে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে স্যামসাং তাদের এই কোয়ার্টারের চূড়ান্ত ও বিস্তারিত আর্থিক বিবরণী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে।




