গাজার কান্না পৌঁছেছে চার্চ অব ইংল্যান্ডের দরজায়

সংগৃহীত ছবি
গাজার যুদ্ধ শুধু একটি ভূখণ্ডকে ক্ষতবিক্ষত করেনি। নাড়া দিয়েছে বিশ্বের ধর্মীয় ও নৈতিক বিবেককেও। সেই প্রতিধ্বনি এবার পৌঁছেছে চার্চ অব ইংল্যান্ডের দরজায়। দীর্ঘদিনের নীরবতার পর ফিলিস্তিনি খ্রিস্টানদের বক্তব্য ও অভিজ্ঞতা গুরুত্ব দিয়ে শোনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চার্চ অব ইংল্যান্ডের জেনারেল সিনড। বিপুল সমর্থনে গৃহীত এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই দেখছেন গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তন হিসেবে।
সিনডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘কাইরোস ফিলিস্তিন–২’ নথি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে। এটি ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান নেতাদের তৈরি একটি ধর্মীয় ও নৈতিক ঘোষণাপত্র। এতে ফিলিস্তিনে ন্যায়বিচার, দখলদারিত্বের অবসান এবং স্থায়ী শান্তির আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) পরামর্শমূলক মতামতের আলোকে চার্চের বিনিয়োগ নীতিও পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের জন্য ন্যায়ভিত্তিক ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আল–জাজিরায় প্রকাশিত এক মতামতধর্মী নিবন্ধে এসব বিষয় তুলে ধরেছেন ফিলিস্তিনি পাদ্রি ও ধর্মতাত্ত্বিক রেভারেন্ড ড. মুনথের আইজ্যাক। তিনি ‘কাইরোস ফিলিস্তিন–২’ নথির অন্যতম সহলেখকও।
মুনথের আইজ্যাকের মতে, এটি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। বরং বহু বছর ধরে উপেক্ষিত ফিলিস্তিনি খ্রিস্টানদের কণ্ঠস্বর শোনার নতুন সূচনা। তার ভাষায়, চার্চ কোনো পক্ষের অবস্থান অন্ধভাবে গ্রহণ করেনি। তারা শুধু শুনতে চেয়েছে। আর সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্কও শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্যের কয়েকটি ইসরায়েলপন্থী সংগঠন এর বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, এ ধরনের নথি গুরুত্ব দেওয়া ইহুদিবিদ্বেষকে উসকে দিতে পারে। খ্রিস্টান-ইহুদি সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মুনথের আইজ্যাক এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার মতে, কোনো রাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা আর কোনো ধর্ম বা জনগোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ এক বিষয় নয়। দুটি বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়।
তিনি বললেন, ‘গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় এখন পুরো বিশ্বের বিবেককে নাড়া দিচ্ছে। হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অসংখ্য শিশু নিহত হয়েছে। লাখো মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ধর্মীয় নেতাদের দায়িত্ব সত্যের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবিক সহায়তার দাবি জোরালো করা।’
চার্চের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ‘জিউইশ ভয়েস ফর লিবারেশ’ নামের একটি ইহুদি সংগঠন। সংগঠনটির মতে, ফিলিস্তিনি খ্রিস্টানদের অভিজ্ঞতা ও বক্তব্য শোনা প্রয়োজন। তাদের কণ্ঠস্বর দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।
নিবন্ধের শেষ দিকে মুনথের আইজ্যাক লিখেছেন, গাজার পর পৃথিবী আর আগের জায়গায় নেই। তাই চার্চ অব ইংল্যান্ডও আর আগের অবস্থানে ফিরে থাকতে পারে না। এখন প্রয়োজন ন্যায়বিচার, মানবিকতা এবং শান্তির পক্ষে আরও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া।




