২০ কোটি টাকার অনুদান ফেরত চায় মহিলা ক্রীড়া সংস্থা

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার জন্য ২০২২ সালের এপ্রিলে ১০ কোটি টাকা ও ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আরও ১০ কোটি টাকা সোনালী ব্যাংকে স্থায়ী আমানত করা হয়। মহিলা ক্রীড়া সংস্থা ব্যাংক থেকে মৌখিকভাবে জানতে পারে এই ২০ কোটি টাকার অনুদান ড. ইউনূস সরকার বাতিল করেছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনা সরকারের দেওয়া সেই টাকা তখনকার প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ফেরত নেওয়া হয়েছে।
এরই প্রতিবাদে আজ শনিবার সংবাদ সম্মেলনে মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা কীভাবে রাষ্ট্রীয় অনুদান বাতিল হলো, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানান। এই ২০ কোটি টাকার অনুদান দ্রুত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।
মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, ‘প্রফেসর ইউনূস নিজে দুই কন্যার পিতা। নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি ও ক্ষমতায়নের জন্য সারা জীবন কাজ করেছেন বলে দাবি করেন। তার নোবেল পুরস্কারের অংশীদারও একজন নারী। অথচ তার শাসনামলে বাংলাদেশের মহিলাদের খেলাধুলার জন্য দেওয়া অনুদান কেড়ে নেওয়া হলো। এই ঘটনা আমাদের বিস্মিত, ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত করেছে।’
কোনো নোটিশ ছাড়াই ক্রীড়া উন্নয়নের এ অর্থ ফেরত নেওয়ায় দেশের গোটা নারী সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। সারওয়াত সিরাজ শুক্লা ক্ষোভ জানিয়ে বলেছেন,‘ আমাদের পেটে লাথি মারা হয়েছে, পিঠে ছুরি আর বুকে আঘাত করা হয়েছে।’
এফডিআরের লভ্যাংশের ৮০ শতাংশ বাংলাদেশের মহিলা ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য ব্যয় এবং বাকি ২০ শতাংশ মূল ‘সিড মানি’র সঙ্গে যুক্ত থাকার নিয়ম ছিল। ৫.৫ শতাংশ সুদে তিন মাস পরপর এই লভ্যাংশ পেয়ে আসছিল মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ তারা ১৫ লাখ টাকা এবং একই বছরের ৩০ এপ্রিল ৭ লাখ ৭২ হাজার টাকাসহ এ পর্যন্ত মোট ১ কোটি ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা লভ্যাংশ পেয়েছে।
সংস্থাটি সর্বশেষ ২০২৫ সালের আগস্টে এফডিআরের লভ্যাংশ পেয়েছিল। এর পর থেকে লভ্যাংশ আর পায়নি। অথচ অনুদানের শর্তে এমন কোনো ধারা ছিল না, যার মাধ্যমে এই অর্থ ফেরত নেওয়া যায়—সেই দাবি করেছেন সভানেত্রী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।




