স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে ব্রাজিলকে নিয়ে সমালোচনার ঝড়

সংগৃহীত ছবি
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বকাপ ম্যাচের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান ব্রাজিল জাতীয় দলকে নিয়ে একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে সাধারণত যে উদ্দীপনা জড়িয়ে থাকে, প্রতিবেদনটিতে তার ছিটেফোঁটাও নেই। বরং কার্লো আনচেলত্তির কাজকর্ম ঘিরে অবিশ্বাস, সমালোচনা আর সংশয়ের এক গভীর ছবি তুলে ধরেছে পত্রিকাটি।
‘লিটল ফেইথ: ব্রাজিলস ভিশন অ্যাজ দে প্রিপেয়ার টু ফেস স্কটল্যান্ড’ শিরোনামে সাংবাদিক টম স্যান্ডারসন এমন একটি দলের চিত্র এঁকেছেন যারা প্রথম দুই রাউন্ড অপরাজিত থেকেও এখন পর্যন্ত মোটেও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারেনি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্রাজিলের এটাই ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে অভিযান। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনা, স্পেন ও ফ্রান্সের মতো শিরোপার দাবিদার দলগুলোর তুলনায় ব্রাজিল এখনো অনেক পিছিয়ে।
গার্ডিয়ানের মতে, মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র ব্রাজিলীয় সমর্থক ও বিশ্লেষকদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পত্রিকাটি লিখেছে, ‘ড্র করে মাঠ ছাড়তে পারাটাই ব্রাজিলের জন্য সৌভাগ্য ছিল।‘ হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ও সেই ধারণা বদলাতে পারেনি। ম্যাচ-পরবর্তী পারফরম্যান্স প্রশ্নের জবাবে কাসেমিরোর বিদ্রুপ প্রতিক্রিয়ার কথাও তুলে এনেছে গার্ডিয়ান।
ব্রাজিলীয় ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রভাবশালী কণ্ঠস্বরদের উদ্ধৃতি দিয়ে দেশ জুড়ে বিরাজমান মনোভাবটি তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। ধারাভাষ্যকার মাউরো সেজার পেরেইরা গার্ডিয়ানকে বলেছেন, ‘ফুটবলের সামান্যতম জ্ঞান যার আছে, সে এই দলের ওপর বেশি ভরসা রাখতে পারছে না।‘ আনচেলত্তির কাজকেও তিনি এই চক্রের শুরুতে ‘যা হওয়া উচিত ছিল তার চেয়ে অনেক নিচে’ বলে মন্তব্য করেন।
পিভিসি নামে পরিচিত পাউলো ভিনিসিয়ুস কোয়েলহো বলেছেন, ‘ব্রাজিল প্রতিযোগিতার মাঝপথে উন্নতি করে সেমিফাইনালে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে পারে। তবে দলটি এখনো প্রস্তুত নয়।‘
নেইমারকে নিয়ে বিতর্কের বিষয়টিও নিবন্ধের উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে রয়েছে। বিশ্বকাপে না খেললেও নেইমার এখনো ব্রাজিলীয় ফুটবলের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় বলে জানিয়েছে গার্ডিয়ান। তাকে দলে ডাকার আগের বিতর্ক, নেতো ও মাউরো সেজারের সমালোচনা এবং ঠিক স্কটল্যান্ড ম্যাচেই তার প্রথম মিনিট পাওয়ার প্রত্যাশার কথাও উঠে এসেছে। ব্রাজিলীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্র দিয়ে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর ম্যাচ ফিটনেস ফিরিয়ে আনতে শুধু অনুকূল পরিস্থিতিতেই তাকে মাঠে নামানো হবে।
নেইমারের পাশাপাশি কাসেমিরোর পারফরম্যান্স, এন্দ্রিকের আরও বেশি মাঠে থাকার দাবি এবং আক্রমণভাগে সেরা ছক কী হওয়া উচিত; এই বিতর্কগুলোও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। গার্ডিয়ানের মতে, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি থাকা সত্ত্বেও আনচেলত্তির ওপর চাপ এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে।




