সংখ্যায় সংখ্যায় বিশ্বকাপের ফাইনাল

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র একদিন। ৪৮ দলের ঐতিহাসিক এক টুর্নামেন্ট শেষ হচ্ছে আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল দিয়ে। বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের ফাইনালের আগে এক নজরে দেখে নেওয়া যাক আগের ২২ ফাইনালের কিছু পরিসংখ্যান।
২
লুইস মন্টি একমাত্র ফুটবলার যিনি দুটি ভিন্ন দেশের হয়ে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছেন। এই মিডফিল্ডার ১৯৩০ সালে তার জন্মভূমি আর্জেন্টিনার হয়ে উরুগুয়ের বিপক্ষে এবং ১৯৩৪ সালে ইতালির হয়ে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ফাইনাল খেলেন। ১৯৩৪ সালের সেই ম্যাচে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুই দলেরই অধিনায়ক ছিলেন দুই গোলরক্ষক—জিয়াম্পিয়েরো কম্বি এবং ফ্রান্টিসেক প্ল্যানিকা। এমন ঘটনা পরের আসরগুলোয় আর কখনোই ঘটেনি।
২
বিশ্বকাপের ইতিহাসে শুধু পাঁচজন ফুটবলার দুটি ভিন্ন ফাইনালে গোল করতে পেরেছেন। তারা হলেন ভাভা (১৯৫৮ ও ১৯৬২), পেলে (১৯৫৮ ও ১৯৭০), পল ব্রেইটনার (১৯৭৪ ও ১৯৮২), জিনেদিন জিদান (১৯৯৮ ও ২০০৬) এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে (২০১৮ ও ২০২২)।
৩
এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের কাফু একমাত্র খেলোয়াড় যিনি তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ খেলেছেন। এই তারকা ডিফেন্ডার ১৯৯৪ সালে ইতালির বিপক্ষে প্রথমার্ধে আহত জর্জিনহোর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন, ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলেন এবং ২০০২ সালে জার্মানির বিপক্ষে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে শিরোপা জেতেন। পেলে রেকর্ড তিনটি বিশ্বকাপ জিতলেও চোটের কারণে ১৯৬২ সালের ফাইনাল ম্যাচে খেলতে পারেননি। ২০১৪ সালে জার্মানি এবং ২০২২ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনাল খেলা লিওনেল মেসি এবার স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামলে কাফুর এই রেকর্ডে ভাগ বসাবেন।
৪
কিলিয়ান এমবাপ্পে বিশ্বকাপের ফাইনালে সর্বোচ্চ ৪টি গোল করার অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। অন্যদিকে জিওফ হার্স্ট, ভাভা, পেলে এবং জিনেদিন জিদান প্রত্যেকে ৩টি করে গোল করেছেন। এমবাপ্পে ২০১৮ সালে একটি এবং ২০২২ সালে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। লুসাইল স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের হয়ে ১১৮তম মিনিটে করা তার শেষ গোলটি বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে দেরিতে হওয়া গোল।
৫
১৯৫৮ সালের ফাইনালে ব্রাজিলের শুরুর একাদশে এমন পাঁচজন খেলোয়াড় ছিলেন, যারা অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে খেলেননি। বিশ্বকাপজয়ী কোনো দলের প্রথম এবং শেষ ম্যাচের একাদশের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। টুর্নামেন্ট চলাকালীন দলে সুযোগ পাওয়া সেই পাঁচজন ছিলেন— ডিজালমা সান্তোস, ইতো, গারিঞ্চা, পেলে এবং ভাভা। সেই ফাইনালে ৩৫ বছর বয়সী নিলস লিডহোম বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতা এবং ১৭ বছর বয়সে পেলে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হন। সুইডেনের বিপক্ষে ব্রাজিলের ৫-২ গোলের জয়টি আজ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের ফাইনাল ম্যাচ।
৭
বিশ্বকাপের ফাইনালে এ পর্যন্ত ৭টি দল পিছিয়ে পড়েও ম্যাচ জিতেছে। এর মধ্যে প্রথম সাতটি বিশ্বকাপের মধ্যেই ছয়টি এমন ঘটনা ঘটেছিল— ১৯৩০ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে উরুগুয়ে, ১৯৩৪ সালে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ইতালি, ১৯৫৪ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে পশ্চিম জার্মানি, ১৯৫৮ সালে সুইডেনের বিপক্ষে ব্রাজিল, ১৯৬২ সালে চেকোস্লোভাকিয়া এবং ১৯৬৬ সালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ইংল্যান্ড। এ ছাড়া ১৯৫০ সালেও উরুগুয়ে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিলকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল, যদিও সেটি অফিসিয়াল ফাইনাল ম্যাচ ছিল না। ফাইনালে গোল খেয়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জেতার সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল ৫২ বছর আগে, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পশ্চিম জার্মানির ম্যাচে। ২০০৬ সালে ইতালি পিছিয়ে পড়ে নির্ধারিত সময়ে জিততে না পারলেও পেনাল্টি শুটআউটে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।




