পেশাদার পথে হেঁটে এশিয়া উজ্জ্বল বিশ্বমঞ্চে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
এবারের বিশ্বকাপে এশিয়ার দলগুলোর পারফরম্যান্স নজর কাড়ছে প্রথম থেকেই। আমি মনে করি, পেশাদার পথে হেঁটেই বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াচ্ছে এশিয়ান দেশগুলো।
২০০২ সালে কোরিয়া ও জাপান বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল। সে সময় থেকেই এই দুটি দেশ পেশাদার লিগ সিস্টেমে ঢুকে যায়। জে লিগ, কে লিগ মানের দিক থেকে এখন অনেক ওপরে। অনেক জনপ্রিয়তাও পেয়েছে। এ ছাড়া এএফসির আরেক সদস্য অস্ট্রেলিয়া অনেক আগে থেকেই এই পেশাদার অবকাঠামোর মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। চায়নিজ ফুটবল লিগও এক সময় জমজমাট ছিল। ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার খেলোয়াড়রা নিয়মিত চায়নিজ লিেগ খেলত। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি প্রো লিগে পৃথিবীর সব শীর্ষ তারকা নিয়মিত খেলছেন। সৌদি ক্লাবগুলোর অবকাঠামো আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। প্রতিটি ক্লাবই ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সিস্টেম শতভাগ অনুসরণ করে।
ইরানে তুলনামূলকভাবে অনেক কারণেই অবকাঠামো ঠিক অন্য দেশগুলোর মতো নয়। তবে তাদের পেশাদার লিগ শীর্ষ পর্যায়ের। উজবেকিস্তানের ফুটবলও সঠিক পথে হেঁটে প্রথমবার বিশ্বকাপে পা রেখেছে। এফসি বুনিয়দকর ক্লাবে এক সময় কোচিং করিয়েছেন লুইস ফেলিপি স্কলারি। রিভালদোর মতো বিশ্ব তারকারা এক সময় খেলেছেন। ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজক কাতার এবার বাছাই খেলে বিশ্বকাপে এসেছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, উন্নত মানের লিগ ও নামিদামি খেলোয়াড়দের নিয়মিত অংশগ্রহণের কারণে। এসপায়ার একাডেমির মতো অাধুনিক প্রতিষ্ঠানে ফুটবল নিয়ে ইয়ুথ লেভেলে ব্যাপক কাজ হচ্ছে।
এশিয়া থেকে যে দেশগুলো এবার বিশ্বকাপে খেলছে, প্রত্যেকের ঘরোয়া ফুটবল অবকাঠামো বেশ শক্তিশালী। উঁচুমানের ফুটবলারদের সঙ্গে নিয়মিত খেলে এবং ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলে সে দেশগুলোর ফুটবলাররা নিজেদের ব্যাপক উন্নতি করেছে। এশিয়ান ফুটবলের আজকের যে উত্থান এবং বিশ্বকাপে তাদের যে পারফরম্যান্স, তা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ। তারা এ পর্যায়ে এসেছে মূলত ইউরোপিয়ান ফুটবলের অবকাঠামো অনুসরণ করে। এশিয়ার বেশিরভাগ দল এরই মধ্যে তাদের প্রথম ম্যাচ খেলেছে এবং ইতিবাচক ফল পেয়েছে। আশা করব, তাদের মধ্যে একাধিক দল বিশ্বকাপের পরের ধাপগুলো উতরে আরও ওপরে যাবে।
এর মধ্যেই শিরোপাপ্রত্যাশী অনেক দল অভিযান শুরু করেছে। আজ পর্তুগাল ও ইংল্যান্ডের শুরু হবে। কোচ রবার্তো মার্তিনেজের অধীনে দারুণ ব্যালান্সড একটি স্কোয়াড নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে পর্তুগাল। ডিফেন্স থেকে শুরু করে প্রতিটি পজিশনে পরীক্ষিত ফুটবলার আছেন। আমার বিশ্বাস, কঙ্গোকে হারানো খুব কঠিন হবে না পর্তুগালের জন্য।




