মেসির অবসর নিয়ে স্কালোনি
আমি কীভাবে জানব

ছবি: রয়টার্স
এই বিশ্বকাপ শেষেই কি তবে লিওনেল মেসি থাকছেন! প্রশ্নটা এখন পৃথিবীর সকল ফুটবলপ্রেমীর। সেই প্রশ্নটাই করা হয়েছিল মেসির বর্তমান কোচকে। সরাসরি উত্তর না দিয়ে রহস্য রেখে দিলেন লিওনেল স্কালোনিও।
৩৯ বছর বয়সে ক্যারিয়ারের আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে নামছেন মেসি। এর আগে খেলেছেন দুটি ফাইনাল। এর মধ্যে শিরোপা জয়ের স্মৃতিও আছে তার। কিন্তু এবার শিরোপা নির্ধারণী খেলেই কি আন্তর্জাতিক বুট জোড়া তুলে রাখবেন? স্কালোনি এর উত্তরে জানিয়েছেন, ‘আমি কীভাবে জানব!’
তবে মেসির প্রশংসায় তিনি ছিলেন অকপট। তাঁর মতে, ‘বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলার’ যে বয়সে এসে বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলছেন, সেটিই অবিশ্বাস্য। সে ফুটবল ইতিহাসের অংশ, একজন লিজেন্ড। ম্যারাডোনাকে আমরা অনেক মিস করি, এখনও। কিন্তু সময় এসেছে তাকে মনে রেখে আমরা এখন যেন মেসিকে উপভোগ করি। মেসিকে ঘিরে এই ছেলেরা যা অর্জন করেছে তা অবিশ্বাস্য। আমরা যদি ফাইনাল নাও জিতি, তবুও আমরা ইতিহাসের অংশ।’
আর্জেন্টিনা কোচের একটা কুসংস্কার ছিল। সব ম্যাচে একই জুতো পরে মাঠে আসতেন। তার বিশ্বাস ছিল ওই জুতো পরলে ম্যাচ জেতেন। কিন্তু ২০২২ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে হেরেছিল ওই জুতো জোড়া পায়ে থাকা অবস্থায়। সেই থেকে এইসব কুসংস্কারকে আর মনে জায়গা দেন না স্কালোনি। আর কি অবিশ্বাস্য ব্যাপার!! সেই ম্যাচের পর এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্যন্ত এক ম্যাচও হারেনি আর্জেন্টিনা।
২০২২ বিশ্বকাপে সৌদির বিপক্ষে সেই হারের পর মোট ১৩ বিশ্বকাপ ম্যাচে অজেয় আর্জেন্টিনা। ১৪তম ম্যাচ জিতে শিরোপা টানা দ্বিতীয়বার ঘরে তুলতে মরিয়া দলটি। নিজেদেরকে ইতিহাসে অমর করার পাশাপাশি দেশের মানুষের জন্য এই শিরোপা জিততে চান স্কালোনিরা।
বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে ফেরানোর তাড়না আর্জেন্টিনা দলের মধ্যে আগের চেয়ে কমেনি, বরং সমর্থকদের আবেগই তাদের আরও অনুপ্রাণিত করছে বলে জানিয়েছেন স্কালোনি। তার কথায়, ‘দেশের মানুষের উচ্ছ্বাস ও আনন্দ দেখলে খেলোয়াড়দের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তাদের জন্যই মাঠে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে চায় খেলোয়াড়রা। আপনি যখন নিজের মানুষকে দেখেন, তারা কীভাবে উদ্যাপন করছে, কতটা খুশি—এটা আপনাকে স্পর্শ করবেই। আপনার হৃদয়ে এর প্রভাব পড়ছে না এটা বলা অসম্ভব।’
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। তবে শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে তাঁদের ক্ষুধা কমে গেছে—এমন আলোচনা ছিল টুর্নামেন্টের আগে। স্কালোনির দল অবশ্য মাঠে তার উল্টো চিত্রই দেখিয়েছে। শুরুতে প্রতিকূলতা এলেও সমর্থকদের উজ্জীবিত উপস্থিতিতে বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা।
‘শেষ পর্যন্ত আমরা তাদের জন্যই খেলি। দল খেলে দেশের জন্য, পরিবারের জন্য। বোকা ও রিভারের সমর্থকেরা একসঙ্গে টেলিভিশনের সামনে বসে আর্জেন্টিনার জয় উদ্যাপন করে—এটা কীভাবে আপনাকে প্রভাবিত করবে না?’ বলেন আর্জেন্টাইন কোচ।
ফাইনালের প্রতিপক্ষ স্পেনকে নিয়েও সতর্ক স্কালোনি। প্রতিপক্ষের প্রতিটি বিষয়ই তাঁকে চিন্তায় ফেলছে বলে রসিকতা করে বলেন, ‘স্পেনের বাস হোটেল ছেড়ে চলে যাচ্ছে—এটাও আমাকে চিন্তায় ফেলছে। সবকিছুই আমাকে চিন্তায় ফেলে।’ তবে তিনি জানান, স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি অন্য ম্যাচগুলোর মতোই নেওয়া হয়েছে।
মেসির সতীর্থ ও আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমি মার্তিনেজও সমর্থকদের আবেগের কথা তুলে ধরেছেন। ‘আর্জেন্টিনার মানুষ ভোররাত দুইটায়, প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যেও উদ্যাপন করে—এটা আমাদের কাছে অনেক কিছু,’ বলেন তিনি।
নিজের চোট নিয়েও কথা বলেন মার্তিনেজ। আঙুলে প্রতিদিন ব্যথা থাকলেও অস্ত্রোপচার এড়িয়ে খেলছেন তিনি। ‘কখনো কখনো একা কাঁদি, আমরা কী অর্জন করেছি তা ভেবে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মুহূর্তটা উপভোগ করা, কারণ এই সময়টা সারাজীবন আমাদের সঙ্গে থাকবে,’ বলেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক।
স্পেনকে শক্তিশালী দল হিসেবে উল্লেখ করে মার্তিনেজ বলেন, ফাইনালটি এমন একটি ম্যাচ হতে পারে, যা সমর্থকেরা বহু বছর মনে রাখবে।




