‘কফিনে শুয়ে নিজের শেষকৃত্য দেখছিলাম’

কাতার বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর নেইমারের কান্না থামছিল না।
দরজায় কড়া নাড়ছে আরেকটি বিশ্বকাপ, কিন্তু কাতার বিশ্বকাপের সেই বিষাদময় রাতটি যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না নেইমারের। ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেওয়ার চার বছর পার হতে চললেও সেই ক্ষত আজও টাটকা এই ব্রাজিলীয় মহাতারকার মনে। সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেলে এক আড্ডায় সেই রাতের ভয়াবহ মানসিক যন্ত্রণা এবং ড্রেসিংরুমের গুমোট পরিবেশ নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি।
ম্যাচ পরবর্তী পরিবেশকে জনপ্রিয় জম্বি সিরিজ ‘দ্য ওয়াকিং ডেড’-এর সঙ্গে তুলনা করে নেইমার বলেন, ‘হোটেলের পরিবেশ ছিল বিভীষিকাময়। মনে হচ্ছিল পৃথিবীটা বুঝি থমকে গেছে। পরিবারের লোকজন যখন আসছিল, কেউ কারও দিকে তাকাতে পারছিল না। সবার চোখ লাল, চারদিকে অস্বাভাবিক নীরবতা—যেন আমরা কোনো শ্মশানে দাঁড়িয়ে আছি।’
সেই সময়ের অনুভূতি নিয়ে নেইমার বলেন, ‘শুনলে হয়তো অদ্ভুত লাগবে, কিন্তু মনে হচ্ছিল আমি নিজের শেষকৃত্য দেখছি। আমি একটা ঘরে চুপচাপ বসে ছিলাম, আর একের পর এক মানুষ আসছিল আমাকে দেখতে। মনে হচ্ছিল আমি কফিনের ভেতর শুয়ে আছি আর সবাই আমাকে বিদায় জানাচ্ছে। পাঁচ মিনিট আমি স্রেফ পাথরের মতো তাকিয়ে ছিলাম। সহ্য করতে না পেরে শেষমেশ রুমে গিয়ে লুকিয়ে পড়েছিলাম।’
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে গোল করেও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে হেরেছিল ব্রাজিল। নেইমার কেন শুরুতে পেনাল্টি নিতে এলেন না, তা নিয়ে আজও আলোচনা হয়। সেই প্রসঙ্গে নেইমার বলেন, ‘আমি সবসময় পঞ্চম শটটিই নিই। কারণ আমার মনে হয় ওটাই সবচেয়ে কঠিন এবং স্নায়ুচাপের। কিন্তু সেই সুযোগটাই আর আসেনি।’ রদ্রিগো ও মার্কিনহোস গোল করতে ব্যর্থ হওয়ায় পঞ্চম শট নেওয়ার আগেই ব্রাজিলের বিদায় নিশ্চিত হয়েছিল।
এদিকে ব্রাজিলের আরেক কিংবদন্তি লেফট ব্যাক মার্সেলো সম্প্রতি ‘রোমারিও টিভি’তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেইমারের সঙ্গে তার কথিত বিবাদের খবর উড়িয়ে দিয়েছেন। মার্সেলো বলেন, ‘নেইমারের সঙ্গে ঝগড়া? পাগল নাকি! আমাদের মধ্যে তেমন কিছুই হয়নি। স্রেফ আমাকে আর জাতীয় দলে ডাকা হয়নি। তবে দীর্ঘ ১২ বছর দলের সেবা করার পর কোনো কারণ ছাড়াই ব্রাত্য হয়ে যাওয়াটা ছিল অদ্ভুত ও কষ্টের।’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এক প্রীতি ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে কাতার হারের আক্ষেপ কিছুটা হলেও মিটিয়েছে সেলেসাওরা। তবে ইনজুরির কারণে সেই ম্যাচের স্কোয়াডে ডাক পাননি নেইমার। ২০২৬ বিশ্বকাপেও তার খেলা পুরোপুরি অনিশ্চিত। তবে তার ভক্তরা প্রত্যাশা করেন, মেসির মতো নেইমারও ক্যারিয়ারের গোধূলি বেলায় এসে শেষ বিশ্বকাপটা খেলুক।















