আমিনুলও আগ্রহ দেখিয়েছেন কোলম্যানে

সংগৃহীত ছবি
ক্রিস কোলম্যান। ওয়েলসের ফুটবল ইতিহাসে সফল কোচদের একজন। ২০১৬ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ওয়েলসকে নিয়ে যাওয়ার কারিগর। সেই কোলম্যানকে নিজেদের ডাগআউটে পেতে চাইছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন!
এই চাওয়াকে বাফুফে কর্তাদের বিলাসিতা বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। ম্যানচেস্টার সিটি, ক্রিস্টাল প্যালেস, ফুলহ্যামের সাবেক এ ডিফেন্ডার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন হামজা চৌধুরীদের কোচ হওয়ার। সেটা জানার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু আলোচনা। বাফুফে ভবনের সামনে কোলম্যানকে কোচ করার দাবিতে একদল মানববন্ধন পর্যন্ত করেছেন!
সোশ্যাল মিডিয়ার ক্রমাগত চাপটাই মনে হচ্ছে নিয়ে ফেলেছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। তিনি জাতীয় দল কমিটির প্রধান। সোশ্যাল মিডিয়ার দাবি রাখতে ৫৫ বছর বয়সী কোলম্যানকে কমিটি রেখেছে সবার ওপরে। তবে তার সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করাটা ঠিক তাদের হাতে নেই। কোলম্যানের চাহিদা মেটাতে তারা তাকিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের দিকে।
কোলম্যানেই বাফুফের আগ্রহ
সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা ১১ কোচের মধ্যে সবার ওপরে কোলম্যান। ওয়েলসের এই কোচের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছিল দুটি আলাদা চাহিদাপত্র। একটি শুধু নিজের জন্য। আরেকটি সহকারীসহ। দুটি অঙ্কই বাফুফের ধরাছোঁয়ার বাইরে। কোলম্যানকে একা পেতে গুনতে হবে ভ্যাট-ট্যাক্সসহ প্রায় ৩০ হাজার ডলার। আর সহকারীসহ আনতে হলে ৫ হাজার ডলার বাড়াতে হবে বাজেট। বাংলাদেশি মুদ্রায় মাসে যা প্রায় ৪৩ লাখ টাকা!
সদ্য বিদায়ী স্প্যানিশ হাভিয়ের কাবরেরার চতুর্থ বছরে এসে বেতন দাঁড়িয়েছিল মাসিক ১৩ হাজার ডলারের কমবেশি। কোচ চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর যখন কোলম্যানের মতো কোচদের আবেদন আসতে থাকে, তখনই দ্বিধায় পড়ে যায় বাফুফে। ২৬০ জন আগ্রহী থেকে তালিকা ছোট করতে গঠিত হয় বিশেষ কমিটি। ২৫-৩০ জনের একটি তালিকা তারা তুলে দেয় জাতীয় দল কমিটির কাছে।
কোলম্যানে ইতিবাচক আমিনুল
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল আশ্বাস দিয়েছিলেন কোচের ব্যাপারে বাফুফেকে সহযোগিতা করবেন। বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহে একটি টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি করেন, ‘আমি এরই মধ্যে বলেছি, বাফুফের সঙ্গে এক হয়ে আমরা সেরা কোচকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য যা করণীয়, সব করব। সার্বিক সহযোগিতা বাফুফের প্রতি থাকবে।’
তবে তারও সীমাবদ্ধতা আছে। আছে অন্য খেলার প্রতি দায়বদ্ধতা। নিজে ফুটবলার ছিলেন বলে এ খেলায় তার দুর্বলতা থাকা স্বাভাবিক। আজ শুক্রবার কোলম্যানকে নেওয়ার সুবিধা-অসুবিধা দুটো দিক মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন তাবিথ। সে আলোচনায় কোলম্যান ইস্যুতে একটা সিদ্ধান্ত পৌঁছানো যাবে বিশ্বাস আমিনুলের।
কোলম্যানে লাভ-ক্ষতি
কোলম্যানকে নেওয়ার সুবিধা হলো, বড়মাপের কোচ নিয়োগে বিশ্বব্যাপী ফুটবল দিয়ে বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়বে। বিশ্বাস থাকবে, বড় কোচ নিশ্চয় বড় স্বপ্ন নিয়েই হাজির হবেন। তবে সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি। পরিচয় গোপন রেখে জাতীয় দলসংশ্লিষ্ট এক কর্তার কথাতেই ফুটে উঠেছে তা— ‘কোলম্যানের মতো বড়মাপের কোচকে ধারণ করার সক্ষমতা বাফুফের নেই। এ দেশের ফুটবলের দৈন্যদশা দেখে কোলম্যানের মোহভঙ্গ ঘটতে সময় লাগবে না। দুদিন মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ খেলা দেখতে গেলেই সব পরিষ্কার হবে। যখন মোহভঙ্গ ঘটবে, তখন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে মিডিয়ায় মুখ খুলবেন। তাতে বাফুফেকে শুনতে হবে গালমন্দ। তা ছাড়া আগামী দুই বছরে এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ খেলা নেই। সাফ হয় কি না, সন্দেহ। বিশ্বকাপ বাছাইও আগামী বছরের দ্বিতীয় ধাপে। মাসের পর মাস বসিয়ে কোলম্যানকে বেতন দেওয়াটা হবে স্রেফ বিলাসিতা।’
হাতে আছে কয়েকটি বিকল্প
কোলম্যান ছাড়াও হামজাদের কোচ হতে চেয়েছেন হাঙ্গেরির সাবেক জার্মান কোচ বার্নড স্টর্ক। যার চাহিদা কোলম্যান তুলনায় বেশ কম (সহকারীসহ ২০ থেকে ২৫ হাজার ডলারের মধ্যে)। জোরেশোরে আলোচনায় ছিলেন ব্রাজিলকে ২০১৬ রিও অলিম্পিকে সোনা জেতানো রোজারিও মিকেল। মাসিক ৩০ হাজার ডলার চেয়েছিলেন নেইমারদের কোচ। বাফুফের কালক্ষেপণে ব্রাজিল সিরি বি’র দল লনদ্রিনা এসপোর্তের সঙ্গে চুক্তি করেছেন মিকেল। আছে জার্মান ফুটবল কোচ অ্যান্থনি হে-ও। বাফুফে অবশ্য এখনো হাল ছাড়েনি। জাতীয় দল কমিটির সদস্য ছাঈদ হাছান কানন জানিয়েছেন, কোলম্যান প্রজেক্ট ভেস্তে গেলে তারা স্টর্ক আর মিকেলের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেবেন, ‘আমরা এমন কাউকে পেতে চাই, যার বিভিন্ন জাতীয় দল পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে এবং বিভিন্ন সময় সফলও হয়েছেন। কোলম্যান পছন্দের শীর্ষে। তাকে পেতে প্রয়োজন বড় বাজেট। চাহিদার পুরোটা জোগানো বাফুফের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমরা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছি।’




