ম্যাকাইয়ের কন্ডিশনে এবার নতুন পরীক্ষা

ম্যাকাইতে রোদ আছে, কিন্তু তেজ নেই। বরং মুশফিকুর রহিমকে দেখা গেছে সোয়েটার গায়ে নেটে ব্যাটিং করতে। এর সঙ্গে আছে বাতাস, ডারউইনের চেয়ে অনেকটাই বেশি। আরও যোগ হয়েছে ম্যাকাইয়ের সজীব ঘাসের বাউন্সি উইকেট। ঠিক এ কন্ডিশন মাথায় রেখেই অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলাদেশ।
কিন্তু ডারউইনের পরিবেশ অনেকটাই নিজের দেশের মতোই ছিল। চেনা কন্ডিশনে সেরা ছন্দ উপহার দিয়ে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাকাইতে সত্যিকারের অজি কন্ডিশন! এবার আসল চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে নাজমুল হোসেন শান্তদের।
ডারউইনে ৯ উইকেটের দাপুটে জয় বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে নতুন আত্মবিশ্বাস, নতুন পরিচিতি। ম্যাকাইতে দ্বিতীয় টেস্টে নাজমুলদের মনোবল বৃদ্ধির জন্য যা অন্যতম বড় জ্বালানি। যেদিকে চোখ রেখে অস্ট্রেলিয়ার নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ দল।
কারণ এবার বাংলাদেশ যে পরিবেশ পাচ্ছে, সেটি ডারউইনের চেয়ে অনেক বেশি অস্ট্রেলিয়ান। ডারউইনের গরম আবহাওয়া ও কিছুটা পরিচিত ধরনের কন্ডিশনে বাংলাদেশের ব্যাটাররা নিজেদের মানিয়ে নিতে পেরেছিলেন দারুণভাবে। মিরপুরে স্পোর্টিং উইকেটে খেলার অভিজ্ঞতাও কাজে লেগেছে। অন্যদিকে ম্যাকাইয়ে আছে প্রবল বাতাস, তুলনামূলক ঠান্ডা আবহাওয়া এবং পিচে সজীব ঘাস। ফলে নতুন বলে পেসারদের জন্য থাকবে বাড়তি সহায়তা, বাউন্সও হতে পারে বেশি।
পিচ দারুণ। কিছুটা ঘাস আছে। ভালো টেস্ট উইকেট। প্রতিটি উইকেটই ব্যাটারদের জন্য ভালো -ফিল সিমন্স
বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স অবশ্য বাতাসকে আলাদা করে কোনো দলের সুবিধা হিসেবে দেখছেন না, ‘ডারউইনেও অনেক বাতাস ছিল। দুই দলকেই এভাবে খেলতে হবে। ভালোভাবে মানিয়ে নিতে হবে।’ আগে ম্যাকাইয়ে এসে কন্ডিশনের সঙ্গে পরিচিত হতে পারাটাকেও তিনি দেখছেন ইতিবাচক হিসেবে।
পিচ নিয়েও আশাবাদী বাংলাদেশ কোচ। তার ভাষায়, ‘পিচ দারুণ। কিছুটা ঘাস আছে। অনেক শক্ত। ভালো টেস্ট উইকেট। প্রতিটি উইকেটই ব্যাটারদের জন্য ভালো। ব্যাপারটা হচ্ছে আপনি ঠিকভাবে ব্যাট করছেন কি না।’
এই ‘ঠিকভাবে ব্যাট করা’র পাশাপাশি বাংলাদেশের পেসারদেরও বড় ভূমিকা রাখতে হবে। ডারউইনে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে দুবার ভেঙে দিয়েছে। এবার ঘাস ও বাউন্সের সুবিধা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের পেসাররা আরও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন।
প্রথম টেস্টের সাফল্যকে এখনই শেষ কথা ভাবতে নারাজ সিমন্স। বরং তার সতর্কবার্তা, নতুন কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ তো আছেই, দ্বিতীয় টেস্টে আরও শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে।
ম্যাচের আগে শিষ্যদের তাই বাস্তবতার মাটিতেই রাখতে চান সিমন্স, ‘অস্ট্রেলিয়া অনেক শক্তিশালী হয়ে আমাদের দিকে আসবে। ফলে আমাদের নিজেদের লেভেল ধরে রাখতে হবে অথবা কিছুটা উন্নতি করতে হবে। আমরা যদি ১ শতাংশ উন্নতিও করতে পারি কিছু বিভাগে, তাহলে নিশ্চিত করতে হবে যে, আমরা মাঠে তা করে দেখাচ্ছি।’
ডারউইন টেস্টে আট সেশনের ছয়টি জিতেছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া মাত্র দুটিতে সাফল্য ভাগাভাগি করেছে। এরকম সফল হতে দ্বিতীয় ম্যাচেও সেশন ধরে খেলায় জোর দিচ্ছেন সিমন্স, ‘পরিকল্পনা হচ্ছে ব্যাট করে যাওয়া। টেস্ট ক্রিকেট পাঁচ দিনের খেলা। যদি আমাদের দল পাঁচ দিনের মধ্যে তিন দিনই ব্যাট করতে পারে, তাহলে অবশ্যই অন্য দল চাপে থাকবে। এটাই আমরা চেষ্টা করছি। আমরা চেষ্টা করছি প্রথম ইনিংসে যেন বড় রান তুলতে পারি, যেন অন্য দলকে আমাদের রানের কাছাকাছি যেতে অনেক কষ্ট করতে হয়।’
ডারউইনের জয়কে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখছেন না বাংলাদেশ কোচ। তার চোখে, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ যে বদলেছে, এ জয় তারই আরেকটি প্রমাণ। তবে সেই সম্মান আরও বাড়াতে হলে ম্যাকাইয়ে ভালো করার বিকল্প নেই।
তাই ম্যাকাইয়ের টেস্ট শুধু সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ নয়, বাংলাদেশের জন্য এক অর্থে নিজেদের প্রমাণের মঞ্চ। ডারউইনে বাংলাদেশ পেয়েছিল তুলনামূলক পরিচিত আবহ। এবার সামনে আসল অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশন। এই পরিবেশে জয় মানে শুধু সিরিজ জয়ের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যাওয়া নয়, বরং ডারউইনের সাফল্য যে কোনো অঘটন ছিল না, সেটিও প্রমাণ করা।






