৯৩ ওভারে ৮১১ রান
ক্রিকেট পিচ নাকি ‘জাতীয় মহাসড়ক’?

গুয়াহাটিতে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দেখা গেছে রান উৎসব। ৯৩.৩ ওভারে ৮১১ রান হওয়া ওই ম্যাচে বোলাররা ছিলেন স্রেফ দর্শক! এমন একপেশে খেলা দেখে ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। রবি শাস্ত্রী ধারাভাষ্য দেওয়ার বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামের পিচকে ‘জাতীয় মহাসড়ক’ আখ্যায়িত করেছিলেন। আরও অনেক সাবেকরাই প্রশ্ন তুলছেন- ব্যাট-বলের আসল লড়াইটা কোথায় হারিয়ে গেল?
ম্যাচটিতে ভারতের অধিনায়ক শুভমান গিল অপরাজিত ২২৩ ও রোহিত শর্মা ১০১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের মধ্য থেকেও আসে তিনটি সেঞ্চুরি। কিন্তু বোলারদের জন্য কিংবা পিচে বিন্দুমাত্র সহায়তা না থাকায় ব্যাটারদের তেমন কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি। ম্যাচজুড়ে রানের বন্যা বয়ে গেছে। ভারত ৬.৩ ওভার হাতে রেখে ৮ উইকেটে জিতে যায়। ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের পেসার মদন লাল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘খুবই বোরিং একটা ম্যাচ ছিল! এমন পাটা উইকেটে আটশর বেশি রান উঠল, যেখানে বোলারদের জন্য বিন্দুমাত্র কিছু ছিল না। বোলারদেরও তো লড়াই করার মতো কিছু দিতে হবে। ব্যাট আর বলের আসল প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা আজ কোথায়?’
তার মতে, একটি আদর্শ ওয়ানডে ম্যাচে দুই দলের ইনিংস গড়ে ২৮০ রানের কাছাকাছি থাকা উচিত, যা দর্শকদের মনে রোমাঞ্চ ছড়ায় এবং সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্ম দেয়। এদিকে দিল্লি দলের সাবেক পেসার সঞ্জীব শর্মার মতে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের রমরমাই এই অবস্থার জন্য দায়ী। তিনি বলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে আমরা নিয়মিতই ২০০ রান তাড়া করে জিততে দেখি। ব্যাটাররা সেই আত্মবিশ্বাসটাই এখন ৫০ ওভারের ফরম্যাটেও নিয়ে আসছে।’ মদন লাল আরও সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের রান উৎসব চলতে থাকলে দীর্ঘমেয়াদে বোলারদের মান ধ্বংস হয়ে যাবে। সঞ্জীব শর্মাও তার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, ‘কুলদীপ যাদব ছাড়া উভয় দলের স্কোয়াডে বল হাতে ম্যাচ উইনিং পারফরমার কেউ ছিল না। ভারতের বোলিং আক্রমণ কিছুটা দ্বিতীয় সারির ছিল, কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের কথা কী বলবেন? তাদের বোলিং তো ছিল অত্যন্ত শোচনীয়।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, টি-টোয়েন্টির ভিড়ে ওয়ানডে ক্রিকেট আজ এক অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। ৫০ ওভারের খেলার আসল আকর্ষণ হলো যেখানে সময় নিয়ে একটি প্রতিযোগিতার গল্প গড়ে ওঠে, ম্যাচ বাঁক নেয় এবং শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ তৈরি হয়। গিলের এই দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি হয়তো রেকর্ড বইয়ে চিরকাল থাকবে, কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন এমন রেকর্ড কেবলই কিছু সংখ্যার হিসাব ছাড়া আর কিছু নয়।





