হজে গিয়ে ৩২ বাংলাদেশির মৃত্যু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চলতি বছর হজ পালনে সৌদি আরবে গিয়ে ৩২ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ২২ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী। তাদের মধ্যে মক্কায় মারা গেছেন ২৩ জন এবং মদিনায় ৯ জন। সর্বশেষ ২৭ মে মারা গেছেন ঢাকার হাজারীবাগের ফরিদা একরাম (৬৮)।
শুক্রবার (২৯ মে) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ম্যানেজমেন্ট পোর্টালের মৃত্যুসংক্রান্ত তথ্য থেকে এসব জানা গেছে।
এর আগে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ৮৬ হাজার ৯৮১ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান। তাঁদের মধ্যে ৪৮ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে ৮৫ হাজার ২৫৭ জন হজযাত্রীর মধ্যে মারা যান ৬৫ জন।
এ ছাড়া ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২২ হাজার ৫৫৮ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান। ওই বছর মৃত্যু হয় ১২১ জনের। ২০২২ সালে ৬০ হাজার ১৪৬ জন হজযাত্রীর মধ্যে ২৬ জনের মৃত্যু হয়।
তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরের মধ্যে ২০২৩ সালে বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। চলতি বছর হজের কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও পরিবর্তন হতে পারে।
পোর্টাল সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর হজে গিয়ে প্রথম মৃত্যু হয় গত ২১ এপ্রিল। ওই দিন জয়পুরহাট সদরের মো. নইম উদ্দীন মণ্ডল (৭৫) মারা যান। এরপর ২২ এপ্রিল টাঙ্গাইল সদরের মো. আবুল কাশেম (৭০), ২৫ এপ্রিল ময়মনসিংহের পাগলার মো. সেরাজুল হক (৬৬) এবং ২৬ এপ্রিল দিনাজপুরের বিরামপুরের মো. খলিলুর রহমান (৬৪) মারা যান।
এ ছাড়া ২৭ এপ্রিল শেরপুরের শ্রীবরদীর মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (৫৮) ও জামালপুরের মাদারগঞ্জের মো. আব্দুল হাই (৬১), এবং ২৮ এপ্রিল রংপুর কোতোয়ালি মেট্রোর মো. শামসুল আলম (৬৩), ৩ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেলের মাহফুজা বেগম (৫২) ও ফরিদপুর সদরের মো. নাসিরউদ্দিন বিশ্বাস (৫৮), ৪ মে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরের মোছা. নিলুফা বেগম (৫৭), ৮ মে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের মো. আজহারুল হক (৬৪) এবং যশোর কোতোয়ালির মো. আব্দুল মতিন (৫৪) মারা যান।
এরপর ১১ মে ঢাকার সাভারের নুসরাত শারমীন (৬২), ১২ মে গাজীপুর সদরের নাসরীন জাহান (৩৭), ১৫ মে টাঙ্গাইলের গোপালপুরের মো. এ মজিদ (৭৫), ১৬ মে ঢাকার তেজগাঁওয়ের এন এম মনিরুল হক (৪৪), ১৭ মে ফেনীর সোনাগাজীর সাজেদা বেগম (৫৬), ১৮ মে নরসিংদীর শিবপুরের মো. আজিজুর রহমান (৬৬), ২০ মে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মো. কামাল হোসাইন (৬১) ও সিরাজগঞ্জের বেলকুচির মো. জাকির হোসেন (৬২), এবং ২১ মে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের সুলতানা চৌধুরী (৭৯) মারা যান।
গত ২২ মে তিনজন মারা যান। তারা হলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (৬১), কিশোরগঞ্জের তাড়াইলের সালেহা বেগম (৫০) এবং ঢাকার মোহাম্মদপুরের কাজী মো. গিয়াসউদ্দীন (৭২)। ২৩ মে’তেও তিনজন মারা গেছেন। তারা হলেন ময়মনসিংহের ত্রিশালের মোছা. হাছিনা বেগম (৬৬), ঢাকার কেরাণীগঞ্জের ফাতেমা বেগম (৭৮) এবং খুলনার সোনাডাঙ্গা মডেলের নুরউদ্দিন শেখ (৭২)।
গত ২৪ মে মারা যান নরসিংদীর রায়পুরার মো. হারুন এর রশিদ (৬৮), ২৫ মে মারা যান তিনজন। তারা হলেন সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের মো. আব্দুর রহমান (৬১), চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের মো. আরফান আলী (৭৫) ও বগুড়া সদরের মো. আ. করিম (৭৪)।
সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, হজ করতে গিয়ে কেউ মারা গেলে তার মরদেহ সেখানেই দাফন করা হয়। মরদেহ নিজ দেশে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না। এমনকি পরিবারের আপত্তিও গ্রহণ করা হয় না।






