শান্তিপূর্ণ হজ শেষে দেশে ফেরা শুরু হাজিদের

প্রতীকী ছবি
শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, সুসমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং নিবিড় তদারকির মধ্য দিয়ে সফলভাবে শেষ হয়েছে ২০২৬ সালের পবিত্র হজ। কোনো বড় ধরনের অপ্রতিকর ঘটনা ছাড়াই হজের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পেরেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসল্লি।
তিন জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে শুক্রবার শেষ হয় এবারের হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। এরপর থেকেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেন বাংলাদেশি হাজিরা। শনিবার দিবাগত রাত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে হজের ফিরতি ফ্লাইট।
সৌদি আরবের স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের এসভি-৫৮০৬ ফ্লাইট প্রথম বাংলাদেশি হাজিদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। প্রথম দিনেই ১৩টি ফ্লাইটে মোট পাঁচ হাজার ৪৩৪ হাজি দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এর আগে গত ১৭ এপ্রিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ২০২৬ সালের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী বহনকারী শেষ ফ্লাইট সৌদি আরবে পৌঁছায় ২১ মে। আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত ফিরতি ফ্লাইট চলবে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি সরকারের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই তাঁবু ভাড়া, পরিবহন চুক্তি, আবাসন, ভিসাসহ সব প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়। পাশাপাশি হজযাত্রী পরিবহনে যুক্ত এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করায় এবার কোনো বড় ধরনের ফ্লাইট জটিলতা ছাড়াই শতভাগ নিবন্ধিত হাজি সৌদি আরবে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
হজ শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও দয়ার ফলেই এবারের হজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেছেন, এ সফলতা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একক অর্জন নয়; বরং এটি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ।
তিনি জানান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক, প্রশাসনিক টিম ও হজ-সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হাজিদের সেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় বিনামূল্যে লাগেজ র্যাপিং, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং আরাফা ও মিনায় জুস বিতরণসহ বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
আগামী বছর হজ ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার আশাবাদ ব্যক্ত করে ধর্মমন্ত্রী বলেছেন, হাজিদের ভোগান্তি কমাতে কিছু হজ প্যাকেজ ও বেসরকারি এজেন্সির কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে হজের ব্যয় কমানোর বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
সৌদি আরবের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুন্দর পরিবেশে এবারের হজ সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য সৌদি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রশংসার দাবিদার।
হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদারও এবারের হজ ব্যবস্থাপনাকে সফল ও সুশৃঙ্খল বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকার, ধর্ম মন্ত্রণালয়, সৌদি কর্তৃপক্ষ, এয়ারলাইন্স এবং হজ এজেন্সিগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই হাজিরা নির্বিঘ্নে ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করতে পেরেছেন।






