যে আমলে সারারাত ইবাদতের সওয়াব মিলে

প্রতীকী ছবি
ইবাদতের জন্য রাতের সময়ের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। নির্জন রাতে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন হওয়া, কোরআন তিলাওয়াত করা, নফল নামাজ আদায় করা মুমিনের জন্য বড় সৌভাগ্যের বিষয়। কিন্তু মহান আল্লাহর রহমত এত বিস্তৃত যে বান্দা যদি আন্তরিকতার সঙ্গে বিশেষ কিছু আমল করে, তবে তার জন্য এমন সওয়াব নির্ধারণ করা হয়েছে যা পুরো রাত ইবাদত করার সমতুল্য। এর মধ্যে অন্যতম হলো জামাতের সঙ্গে এশা ও ফজরের নামাজ আদায় করা।
উসমান ইবনু আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأَنَّمَا قَامَ نِصْفَ اللَّيْلِ وَمَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأَنَّمَا صَلَّى اللَّيْلَ كُلَّهُ
‘যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে এশার সালাত আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত সালাত আদায় করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামাতের সঙ্গে আদায় করল, সে যেন সারা রাত সালাত আদায় করল।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৫৬)
এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জামাতের নামাজের গুরুত্ব এবং এর বিশাল প্রতিদানের কথা তুলে ধরেছেন। সাধারণভাবে মানুষ মনে করে, বেশি সময় ধরে ইবাদত করলেই বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে। অথচ ইসলামের শিক্ষা হলো, ইবাদতের পরিমাণের পাশাপাশি এর ধারাবহিকতা, আন্তরিকতা ও শরিয়তসম্মত পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ।
এশার নামাজ দিনের ব্যস্ততা শেষে একজন মুসলমানের শেষ ফরজ ইবাদত। অনেক সময় রাতের ক্লান্তি, অলসতা বা ঘুমের কারণে মানুষ এশার নামাজে অবহেলা করে। আবার ফজরের নামাজ এমন এক সময়, যখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমের মধ্যে থাকে। এই কঠিন সময়ে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে জামাতে উপস্থিত হওয়া বান্দার ঈমান ও আল্লাহভীতির পরিচয় বহন করে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশেষভাবে এশা ও ফজরের নামাজের জামাতের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। কারণ এ দুই ওয়াক্তে যারা জামাতে উপস্থিত হয়, তারা মূলত নিজের প্রবৃত্তি ও অলসতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেয়। এ কারণেই তাদের জন্য এত বড় পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে ভারী নামাজ হলো এশা ও ফজরের নামাজ। তারা যদি জানত এ দুই নামাজে কী রয়েছে, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা উপস্থিত হতো।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৫৭; মুসলিম, হাদিস : ৬৫১)
জামাতের সঙ্গে নামাজ শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয়, এটি মুসলিম সমাজের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্কেরও প্রতীক। মসজিদে ধনী-গরিব, ছোট-বড় সবাই একই কাতারে দাঁড়িয়ে আল্লাহর সামনে নিজেদের সমান হিসেবে উপস্থাপন করে।
তাই একজন মুমিনের উচিত এশা ও ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায়ের অভ্যাস গড়ে তোলা। এটি যেমন দৈনন্দিন জীবনে শৃঙ্খলা আনে, তেমনি আখিরাতের জন্য অর্জন করে অসীম প্রতিদান। অল্প সময়ের একটি আমল, কিন্তু আল্লাহর কাছে তার প্রতিদান হতে পারে পুরো রাত ইবাদতের সমান।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের তাওফিক দান করুন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক




