স্মরণসভায় মির্জা আব্বাস
রাজপথ থেকে মুক্তিযুদ্ধ, খোকার সঙ্গে একসঙ্গে ছিলাম

স্মরণসভায় বক্তব্য রাখছেন মির্জা আব্বাস। ছবি : সংগৃহীত
‘রাজপথের আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ, জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে একসঙ্গে পথ চলেছি।’ বিএনপির প্রয়াত নেতা ও অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা তুলে ধরে এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গোপীবাগে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। খোকার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, ‘তিনি কম হাসতেন, কিন্তু তার কথাবার্তা ও আন্তরিকতা মানুষকে সহজেই কাছে টেনে নিত। তিনি অত্যন্ত সহজ-সরল ও বড় মনের মানুষ ছিলেন।’
এর আগে মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা ঢাকার জুরাইন কবরস্থানে খোকার কবর জিয়ারত করেন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিভিন্ন স্থানে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়। পরিবারের পক্ষে তার ছেলে ইশরাক হোসেন এমপিসহ অন্যরা এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সাদেক হোসেন খোকা ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মেমোরিয়াল স্লোয়ান কেটারিং ক্যানসার সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
স্মরণসভায় শৈশব ও রাজপথের দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ‘আমরা পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দা ছিলাম। আমি শাহজাহানপুরের, আর খোকা গোপীবাগের। কখন যে একে অপরের সঙ্গী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হয়ে গেলাম, বুঝতেই পারিনি। মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা—সবখানেই আমরা একসঙ্গে ছিলাম। হাতে হাত রেখে এতগুলো বছর কীভাবে পার হয়ে গেল, আর আমাদের বয়স কীভাবে বেড়ে গেল, তা আজ ভাবতে কষ্ট হয়। খোকা এবং আমার জীবনের নানা ঘটনা নিয়ে যদি লিখতে বসি, তবে আস্ত একটি বই হয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতিতে আমাদের মতপার্থক্য কিংবা ঝগড়াও হতো, কিন্তু দিন শেষে আমরা বিএনপির আদর্শ ও মানুষের জন্য একসঙ্গে কাজ করেছি।’
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘রাজনীতির নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমরা গিয়েছি। আজ সে আমাদের মাঝে নেই, সে থাকলে হয়তো বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আরও অনেক ভালো কিছু হতে পারত।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ও প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন প্রমুখ।



