আলাল
বাজেটে দক্ষিণবাংলা বঞ্চিত হয়েছে

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দক্ষিণবাংলা তথা বরিশাল বিভাগকে চরমভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
আজ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে এ অভিযোগ করেন তিনি। দক্ষিণবাংলার প্রায় ১০টি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনগুলো হলো— দক্ষিণবাংলা ফোরাম, বরিশাল বিভাগ সমিতি, বরিশাল জেলা সমিতি, পটুয়াখালী জেলা সমিতি, বরগুনা জেলা সমিতি, বরিশাল বিভাগ সাংবাদিক সমিতি, পটুয়াখালী জেলা সাংবাদিক ফোরামসহ দক্ষিণবাংলার বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা সমিতি, সাংবাদিক এবং শিক্ষার্থী সংগঠন।
সেখানে বিএনপি নেতা আলাল উল্লেখ করেন, এর আগে একনেকে অনুমোদিত হওয়া সত্ত্বেও ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার জন্য নতুন বাজেটে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। অথচ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই দুই লেনের মহাসড়কে প্রতিদিনই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন মানুষ।
মানববন্ধনে দক্ষিণবাংলা ফোরামের মুখপাত্র সাংবাদিক বদরুল আলম নাবিল বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চট্টগ্রামের ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য মোট ১১ হাজার ৬২৮ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্তু বরিশাল বিভাগ তথা দক্ষিণবাংলার জন্য বাজেটে কোনো বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব নেই।
ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক বাণিজ্যের চাপ সামলাতে বিকল্প বন্দর হিসেবে পায়রা বন্দরকে সচল করার পরামর্শ দেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান। তিনি বললেন, ‘নতুন এই বন্দরটির ড্রেজিং ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করলে বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকা আয় হবে সরকারের—এমন তথ্য দিয়েছেন খোদ পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান।’
মানববন্ধনে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, নদীভাঙন রোধে দক্ষিণাঞ্চলের সব জেলায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ভোলার অব্যবহৃত গ্যাস দিয়ে ভোলা-বরিশাল-পটুয়াখালী অঞ্চলে শিল্পকারখানা গড়ে তোলা, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা, কুয়াকাটায় বিমানবন্দর ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন এবং ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেললাইন নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান বক্তারা।
প্রস্তাবিত বাজেটে সংশোধনী এনে এসব প্রকল্পে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার মাধ্যমে পিছিয়ে থাকা দক্ষিণবাংলার সামগ্রিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।






