প্যাট্রিস লুমুম্বা, বিপ্লবী ভোলে না যাকে এবং দুটি কবিতা

প্যাট্রিস লুমুম্বা
২ জুলাই নীরবে চলে গেল প্যাট্রিস লুমুম্বার জন্মদিন ৷ আফ্রিকাসহ গোটা দুনিয়ার নিপীড়িত জনতার মুক্তিসংগ্রামের নেতা, কঙ্গোর প্রথম রাষ্ট্রপতি শহীদ প্যাট্রিস লুমুম্বা। মৃত্যুর ৬৫ বছর পর যিনি ন্যায়বিচার পেতে চলেছেন। ১৯৬০ সালের জুনে পরাধীনতার শিকল ছিঁড়ে বেলজিয়ামের কাছ থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেয় কঙ্গো। স্বাধীন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন লুমুম্বা ৷ মাত্র কয়েক মাস পরেই, সেপ্টেম্বরে বেলজিয়ামের সরাসরি মদদে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় ৷ পরের বছর, ১৯৬১-র জানুয়ারিতে লুমুম্বা এবং তার দুই সহযোদ্ধাকে গুলি করে হত্যার পর লাশ অ্যাসিডে গলিয়ে দেওয়া হয়। পরে বেলজিয়াম এই অপরাধের জন্য গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং শহীদ লুমুম্বার পরিবারের কাছে দায় স্বীকার করে ক্ষমা চায়। গত মার্চ মাসে বেলজিয়ামের একটি আদালত লুমুম্বাকে নির্যাতন এবং হত্যার ঘটনায় প্রাক্তন বেলজিয়ান কূটনীতিক এতিয়েন দাভিগননের বিচারের নির্দেশ দিয়েছে। এতিয়েনের বয়স এখন ৯৩ বছর। ২০১১ সালে লুমুম্বার পরিবারের পক্ষ থেকে ৬ দশক আগের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে যে ১০ জন বেলজিয়ান নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, তাদের মধ্যে দাভিগননই একমাত্র জীবিত ব্যক্তি। প্যাট্রিস লুমুম্বার জন্মদিন উপলক্ষে লিখেছেন আগামীর সময়ের সাহিত্য সম্পাদক এবং হেড অব ক্রিয়েটিভ রিসার্চ অ্যান্ড ইভেন্টস শিমুল সালাহ্উদ্দিন)
কাসাই নদীর এপার-ওপার জুড়ে তখন বর্ষার পানি, আর জঙ্গলের গভীরে বেজে চলেছে তুমুল তুমতাম— ১৯২৫ সালের ২রা জুলাই জন্ম নেওয়া এক শিশু যে একদিন গোটা উপনিবেশিক দুনিয়ার বুকে কাঁপন তুলবে, কে জানত! কাতাকোকোম্বে গ্রামের ছোট্ট প্যাট্রিস, বাতেতেলা গোত্রের সন্তান, মাটির ঘরে চোখ মেলে যে তাকিয়েছিল এক বিষাক্ত পৃথিবীর দিকে, যেখানে বেলজিয়ামের লালফিতার দাপটে কঙ্গোর মানুষের আর্তনাদও চাপা পড়ে যেত, সেই ঔপনিবেশিক শাসনের নিচু ছাদ মাথায় নিয়েই বড়ো হওয়া, অথচ সেই ছাদ ভেঙে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখা— এ এক অদ্ভুত গল্পের অধিক জীবনের গল্প যেন। মিশনারি স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে ডাকঘরে চাকরি, তারপর ভ্রাম্যমাণ বিয়ার বিক্রেতা হয়ে কঙ্গোর আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়ানো, আর গরিব-দুঃখী মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে এক অদ্ভুত বোধের উন্মেষ। যে বোধ পরবর্তী কালে গোটা আফ্রিকার বিবেককে নাড়া দিয়েছিল। প্যাট্রিক লুমুম্বার জন্মই যেন ছিল প্রতিরোধের এক তীব্র প্রতিশ্রুতি।
লিওপোল্ডভিলের রাজপথে দাঁড়িয়ে সে বোধই একদিন জ্বলন্ত অক্ষরে লেখা হলো। ১৯৬০ সালের ৩০শে জুন, স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ। বেলজিয়ামের রাজা বোঁদোয়া যখন উপনিবেশিক সভ্যতার জয়গান গাইছেন, তখন একপ্রকার বিনা অনুমতিতেই মঞ্চে উঠে পড়লেন এক তরুণ— পরনে স্যুট, চোখে দুর্বিনীত আত্মবিশ্বাস। আর তারপর যা ঘটল, তা ইতিহাস। উপনিবেশের লাঞ্ছনা, জুলুম, অপমান— সব যেন শব্দ হয়ে বেরিয়ে এল লুমুম্বার গলায়। "আমরা আর নই তোমাদের বাঁদর"— এই উচ্চারণ যেন পশ্চিমা সভ্যতার গালে থাপ্পড় মারল। সেই ভাষণ বিশ্বব্যাপী ঔপনিবেশিকতা-বিরোধী আন্দোলনের কাছে এক দলিল হয়ে গেল, অথচ সেই ভাষণই যেন স্বাক্ষর করে দিল তাঁর নিজের মৃত্যুপরোয়ানায়। লুমুম্বা বুঝেছিলেন, আপসহীন কণ্ঠস্বরই প্রকৃত স্বাধীনতার ভিত রচনা করে। সংক্ষিপ্ত জীবনে তিনি দেখিয়ে গেলেন, কীভাবে একটি বজ্রকণ্ঠই সাম্রাজ্যবাদের ঘুম হারাম করে দিতে পারে।
কিন্তু সেই কণ্ঠকে স্তব্ধ করার জন্য ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হলো অন্ধকার ঘরে ঘরে, যেমন করা হয়েছিল আমাদেরও জাতীর পিতার ক্ষেত্রে। মাত্র ৬৭ দিনের শাসনকাল লুমুম্বার। একটি অস্থির দেশ, একদিকে সেনাবাহিনীর বিদ্রোহ, অন্যদিকে খনিজসমৃদ্ধ কাতাঙ্গা প্রদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন, যার পেছনে ছিল বেলজিয়াম ও পশ্চিমা খনিজ কোম্পানিগুলোর অদৃশ্য হাত। লুমুম্বার অপরাধ ছিল একটিই— তিনি কঙ্গোর সম্পদ কঙ্গোর মানুষের জন্যই রাখতে চেয়েছিলেন, দেশের প্রকৃত সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করতেন। এই সরল অথচ বিপ্লবী চিন্তাই তাঁর কাল হয়ে দাঁড়াল। স্নায়ুযুদ্ধের উত্তাপ যখন তুঙ্গে, লুমুম্বার সোভিয়েতপন্থী মনোভাবও পশ্চিমাদের আতঙ্কিত করে তোলে তখন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র গোপন প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিল, "লুমুম্বাকে সরানো ছাড়া উপায় নেই।" আর তাই হলো। সহযোগী মোবুতু সেসের বিশ্বাসঘাতকতায় গৃহবন্দি, তারপর নৃশংসতম পরিণতি। জীবনের শেষ দিনগুলোতে হাত-পা বাঁধা, মুখে রক্ত, গেঁথে রাখা বেয়নেটের ক্ষত— তবু চোখে যেন অম্লান দীপ্তি। তিনি ফাঁসির আগেও বলে গেলেন, "একদিন ইতিহাসের কাঠগড়ায় হবে তোমাদের বিচার।''
সেই বিচার যেন শুরু হয়েছে। মৃত্যুর ৬৫ বছর পরে, বেলজিয়ামের সেই নির্মম ঔপনিবেশিক অতীত আবার কাঠগড়ায়। এতিয়েন দাভিগনন, যে কিনা এককালে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের সূত্রধর ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে এখন চলছে আইনি লড়াই। কিন্তু লুমুম্বা তো কেবল একটি মামলা বা একটি খুনের নাম নন। তিনি এক আশাবীজ। যে বীজ থেকে জন্ম নিয়েছে আফ্রিকার অগণিত মুক্তিকামী মানুষের স্বপ্ন। তিনি দিয়ে গেছেন নিরঙ্কুশ আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত, দিয়ে গেছেন রাজনৈতিক দূরদর্শিতার এক জ্বলন্ত ম্যানিফেস্টো। প্যান-আফ্রিকানিজমের স্বপ্ন তিনি বুনেছিলেন এমন এক সময়ে, যখন আফ্রিকা ছিল খণ্ড-বিখণ্ড, একেকটি দেশ একেক সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হাতের পুতুল। তাঁর লেখা চিঠি, ভাষণ, কবিতা— সবই এখন আন্দোলনের মন্ত্র। তিনি দেখিয়ে গেছেন, ক্ষমতার মসনদ নয়, মানুষের মনে বেঁচে থাকাই প্রকৃত অমরত্ব।
পৃথিবীর ইতিহাসে লুমুম্বা নামটি এক আশ্চর্য সত্য উচ্চারণ করে যায়— লুমুম্বাদের মতো মানুষের জন্ম হয় বলেই সাম্রাজ্যবাদের ঘুম ভাঙে, নিপীড়কদের হাত কাঁপে। যখনই কোনো সমাজ চরম দুর্দিনে পড়ে, যখন একনায়কতন্ত্রের থাবা গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করে ফেলে, তখনই ইতিহাসের গর্ভ থেকে জন্ম নেন এক একজন নতুন লুমুম্বা। তাঁরা আপস করেন না, ভয় পান না, প্রয়োজনে নিজেদের দেহকে ইতিহাসের উনুনে জ্বালিয়ে দেন। দুনিয়ায় লুমুম্বাদের মতো মানুষ থাকলে ক্ষমতার দাপুটে দালানেও ফাটল ধরে, অত্যাচারীর হাতের অস্ত্র খসে পড়ে, নির্বাক মানুষের মুখে ভাষা ফেরে। লুমুম্বা নেই, কিন্তু লুমুম্বার আদর্শ আছে, যে আদর্শ চিরকাল বাতিঘর হয়ে জ্বলবে কঙ্গোর বুকে, আফ্রিকার প্রান্তরে, আর গোটা দুনিয়ার মুক্তিকামী মানুষের হৃদয়ে। উপনিবেশ ধ্বংস হোক, লুমুম্বার স্মৃতি চিরজীবী হোক— এই ধ্বনি তো কেবল শব্দমালা নয়, এ এক দীপ্ত অঙ্গীকার, যা কাল থেকে কালান্তরে ধ্বনিত হয়ে চলেছে অনির্বাণ মন্ত্রের মতো।
প্যাট্রিস লুমুম্বাকে নিয়ে বেগম সুফিয়া কামালের কবিতা
লুমুম্বার আফ্রিকা
বেগম সুফিয়া কামাল
আফ্রিকার কালো বুকে জ্বলিয়াছে আলো, রাত্রি শেষ
মুমূর্ষু সিংহের চক্ষে মৃত্যুর আবেশ।
সে আবেশ ক্লান্তি নয়, জীবনের অদম্য ইশারা
আফ্রিকার ঘনারণ্যে জাগাইয়া তুলিয়াছে সাড়া!
শ্বাপদের হিংস্র চক্ষু সিংহের সাহসী সঞ্চরণে
ভীত! ব্যাহত হয়! অরণ্যে সে গম্ভীর গর্জনে
মাটি ওঠে সাড়া দিয়ে, কোটি প্রাণ হয় অঙ্কুরিত,
একের মৃত্যুর পরে প্রাণ লীলা চলে অব্যাহত।
ঘন কৃষ্ণ মেঘে বহ্নি লুপ্ত থেকে বজ্রের আরাবে
দাবানল জ্বেলে যায়, সে কোথা হারাবে!
বিলুপ্তি তাহার নহে, অগ্নি জ্বলে তরু মর্মমূলে,
সেই প্রাণ শিখা জাগে পল্লবে মুকুলে ফলে ফুলে।
লুমুম্বার প্রাণশক্তি তরুতে পল্লবে দিকে দিকে অগ্নির অক্ষরে গেল লিখে
অরণ্যের জাগরণ। অন্ধকার গিরির কন্দরে
কৃষ্ণ অঙ্গারের বক্ষে অমূল্য হীরক দ্যুতি ক্ষরে।
উপেক্ষিত আফ্রিকার এ অগ্নিপ্রবাহ দ্যুতিময়
পদাঘাতে ছিন্ন করে পরাধীনতারে, লভে জয়।
এ বিপুল বিশ্বারণ্যে লুমুম্বার শোণিত প্রবাহ
ছড়াইল দীপ্তময় পাবক প্রদাহ-
জাগরণ! মানবাধিকারবোধ জ্বালা
শহীদের কণ্ঠে রাজে শোণিতাক্ত অপরাজিতার
নীল মালা।
আফ্রিকার রাত্রি শেষ। দিগন্তে প্রদীপ্ত সূর্যকর
অগ্নিবাহু মেলে দিয়ে উদ্ভাসিয়া তুলিছে প্রহর।
জয়, আমাদের জনতার জয়
প্যাট্রিস লুমুম্বা
অনুবাদ: শিমুল সালাহ্উদ্দিন
কাঁদো, কাঁদো হে আমার কালো ভাই,
এই গভীর, নিষ্ঠুর, চির অন্ধকারে চিরতরে চাপা পড়া ভাই—
যে ভাইয়ের ছাই উড়িয়ে নিয়ে গেছে মরুঝড় আর বিষণ্ন চোখ—
ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিয়েছে গোটা পৃথিবীর প্রতি মানুষের বুকে।
তুমিই তো সে, যার হাত গড়েছিল পিরামিড, সেই সব
রাজ-খুনেদের স্মৃতির উদ্দেশে।
তুমিই তো সে এবং তারা,
যাদের ধরে এনেছে বারবার পালে পালে,
তুই তো সে এবং সে
যাদেরকে হারিয়ে দিয়েছে তারা ক্ষমতার নৃশংসতার জোরে;
তোমাকে তারা শিখিয়েছে কেবল একটি বুলি—
একটিমাত্র শ্লোগান— দাসত্ব, নইলে মৃত্যু।
যে তুমি লুকিয়ে ছিলে গভীর অন্ধকার বনে,
আর নিঃশব্দে মেনে নিয়েছ অজস্র মৃত্যু—
জঙ্গলের হাড়কাঁপানো জ্বরের ছদ্মবেশে,
ব্যাঘ্রশাবকের ক্ষুধার্ত বিষদাঁতের ফাঁকে,
কিংবা জলা-জমির অজগর-আলিঙ্গনে,
যে আলিঙ্গন ধীরে ধীরে শ্বাসরোধ করে,
বিষাক্ত সাপের মতোই—
তারপর এল সেই অভিশপ্ত দিন, এল সেই শাদা মানুষের দল—
যারা সব মৃত্যুর চেয়েও চালাক, নির্মম, আর দ্বেষে ভরা।
তোমাকে সোনার বদলে সে ধরিয়ে দিল পুঁতি, দামি খেলনা;
তোমার বোনদের, তোমার স্ত্রীদের সে চূড়ান্ত অপমান করল,
ছিনিয়ে নিলো দেহ, সম্ভ্রম আর যত্নে তুলে রাখা কৌমার্য;
তোমার ছেলেদের, তোমার ভাইদের বিষিয়ে তুলল নেশায়, মদে;
তারপর ঠেলে দিল জাহাজের তলদেশের অন্ধকার কোটরে—
তখনই বেজে উঠল ঢাক—
গ্রাম থেকে গ্রামে ধ্বনিত হলো খবর:
আরেকটা ভিনদেশী দাস-জাহাজ ছেড়ে গেছে
সেই দূরের অজানা পাড়ে,
যেখানে ঈশ্বরের নাম তুলা,
যেখানে ডলারই একমাত্র আদেশের বাদশাহ্।
সেখানে চির-পেষণের কঠোর শ্রমের দণ্ড,
ভোর থেকে সন্ধ্যা—নির্দয় সূর্যের তলায় খেটে খেটে,
তোমাকে সুরে ও গীতে তারা শেখাল তারা প্রভুর গান,
যখন তুমি ক্রুশবিদ্ধ হচ্ছিলে স্তোত্রের সুরে—
যে সুর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিল পরকালের স্বর্গরাজ্যের,
আর তুমি তখন কেবল একটিই ভিক্ষা চেয়েছিলে তাদের কাছে:
শুধু একটুখানি বাঁচার অধিকার—
শুধু বেঁচে থাকা, শুধু বেঁচে থাকা, এইটুকুই।
রাতের আগুনের পাশে বসে তোমার অস্পষ্ট, অদ্ভুত স্বপ্নগুলো
উথলে উঠত গভীর বিষণ্ণ এক বিষাদ-সুরে, সে সুর যেমন আদিম
তেমনি নির্বাক, বোবা, মূক— ঠিক তোমার যন্ত্রণার মতোই।
কখনো কখনো তুমি খেলতে, তুমি মেতে উঠতে,
শুধু প্রাণের উচ্ছ্বাসে তুমি নাচতে;
তখন তোমার পুরুষত্বের সবটুকু মহিমা,
যৌবনের মিষ্টি সব বাসনা
ধ্বনিত হতো পিতলের তারে, জ্বলন্ত খঞ্জনিতে,
এক অদম্য শক্তির বুনো উচ্ছ্বাস যেনো—
আর সেই মহাসংগীতের গভীর থেকেই জন্ম নিল জ্যাজ—
বিদ্রোহী, তুফানী, খামখেয়ালি জ্যাজ,
যে শ্বেতমানুষকে উচ্চকণ্ঠে জানিয়ে দিল:
এই পুরো গ্রহটা কেবল তাদের জন্য নয়।
ওহে সংগীত, তুমিই তো প্রথম সুযোগ দিয়েছিলে
আমাদের মুখ তুলে তাকাতে, চোখ মেলতে
সেই ভবিষ্যতের স্বাধীনতার দিকে,
যে স্বাধীনতা একদিন আমাদের হবেই—
তবে এখন ওঠো, শক্তিমান নদীগুলোর তীরের দিকে দ্যাখো,
যে তীর বয়ে নিয়ে যায় জীবন্ত জলের
ধারাকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে—
ভাইয়েরা আমার, সেই সব তীর হোক তোমার!
দুপুরের এই নির্দয় সূর্যের জ্বলন্ত তাপ
পুড়িয়ে ছাই করুক তোমার শোক!
চিরস্থায়ী এই রোদ্দুরে বাষ্প হয়ে উবে যাক
তোমার বংশানুক্রমের সমস্ত অশ্রু—
তোমার বাবার, তোমার দাদার— যারা এই শোকাকুল প্রান্তরে
অমানবিক নির্যাতনে মৃত্যুবরণ করেছিল।
আর আমাদের জনগণ— চিরমুক্ত, চিরসুখী—
তারা বেঁচে থাকুক, জয়ী হোক, শান্তিতে বিকশিত হোক
আমাদের এই কঙ্গোতে,
এইখানে, আমাদের এই মহান আফ্রিকার একেবারে বুকের মাঝখানে!
জয় হোক আমাদের জনতার! জয়, আমাদের জনতার জয়।







